খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসির ‘বিশ্বসেরা’ স্বীকৃতি পেলেন যে ফুটবলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৪:০৭ পি.এম | ২০ জুলাই ২০২৬

 

ফুটবল শুধু গোল, ট্রফি কিংবা জয়ের গল্প নয়; কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর প্রজন্মের সেতুবন্ধনের এক অনন্য ভাষা। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিশ্বকাপ ফাইনালেও এমনই এক মুহূর্ত কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্পেনের শিরোপা জয়ের উল্লাসের মাঝেও ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ছুটে যান পরাজিত আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে। বিজয়-পরাজয়ের সীমারেখা ভুলে দুই প্রজন্মের দুই তারকার সেই আলিঙ্গনই হয়ে ওঠে ম্যাচ-পরবর্তী সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য।

ফাইনালের ফলাফল যাই হোক, এই একটি মুহূর্ত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর সতীর্থদের উল্লাসের মাঝ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ইয়ামাল খুঁজে নিয়েছিলেন একা বসে থাকা মেসিকে। মেসিও উঠে দাঁড়িয়ে বুকে টেনে নেন এই তরুণকে।

এই দৃশ্য কেবল শ্রদ্ধা নয়, ছিল এক অদ্ভুত পূর্ণতা। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের এক দাতব্য অনুষ্ঠানে শিশু ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন তরুণ মেসি। সেই ছবি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। প্রায় ১৯ বছর পর সেই সম্পর্ক ফিরে এল বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠে।

ইয়ামাল বরাবরই মেসিকে ফুটবলের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় বলে মানেন। তিনি নেইমারকে আদর্শ মানলেও, মেসির প্রতি তার শ্রদ্ধা আলাদা। অন্যদিকে মেসিও ফাইনালের আগে ইয়ামালের প্রশংসা করে বলেছিলেন, “ও এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাফল্য মানে বার্সেলোনারও সাফল্য।”

খেলার ফলাফলে একজন জিতবেন, অন্যজন হারবেন এটাই ফুটবলের নিয়ম। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই ফাইনাল ট্রফি জয়ের চেয়েও বেশি করে মনে রাখা হবে দুই প্রজন্মের এই হৃদয়স্পর্শী মেলবন্ধনকে। যেখানে জয়ের আনন্দ আর পরাজয়ের বিষাদকে ছাপিয়ে উঠেছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর ফুটবলের অমর রূপকথা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ