খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:০৬ পি.এম | ২০ জুলাই ২০২৬


সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন এক নারীকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

গণপিটুনিতে নিহত ঝালমুড়ির বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের  কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা সুলতানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময়েও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কালিগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরে পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) এর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রব ভেতর থেকে ফারজানা সুলতানার মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য থানার হেফাজতে নেন।

এদিকে, নিহত স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কিভাবে করবে শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ