খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিজেপির কর্মসূচিতে নজরদারির অভিযোগ দিল্লি পুলিশকে হাইকোর্টে তলব

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৮ এ.এম | ২১ জুলাই ২০২৬


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে পুলিশের নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একটি পিটিশনের শুনানিতে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন বিচারকরা। সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারির অভিযোগে করা একটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা জানতে দিল্লি পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালের এক যুগান্তকারী রায়ে সর্বসম্মতিক্রমে গোপনীয়তাকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, যেকোনো রাষ্ট্রীয় নজরদারি অবশ্যই আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় এবং উদ্দেশ্যের সঙ্গে আনুপাতিক হতে হবে।
ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি আইশে ঘোষ হাইকোর্টে এ আবেদন করেছেন। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২০ জুন যন্তর মন্তরে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিয়ত ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং একটি স্থায়ী নজরদারি টাওয়ারের মাধ্যমে দিনরাত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই নজরদারি শুধু বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা চাওয়াসহ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও ধারণ করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আইশে ঘোষ দাবি করেছেন, বৃষ্টির সময় পোশাক ভিজে গেলেও নারী বিক্ষোভকারীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা নজরদারি-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা দেখেছে কি না। দিল্লি পুলিশের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘দিল্লি পুলিশ কি সেই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করেছে?’
শুনানিতে তুষার মেহতা দাবি করেন, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের নজরদারি চালানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে প্রতিটি বিক্ষোভই সবসময় রেকর্ড করা হয়। এই বিক্ষোভে শত শত আন্দোলনকারীকে ভিডিও ও রিল  তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়। এখানে কোনো নজরদারি করা হচ্ছে না।’
এনডিটিভি জানিয়েছে, আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) এ বিষয়ে আবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। 
সূত্র: এনডিটিভি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ