খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পৃথক দু’টি রায় : মাগুরায় স্কুলছাত্রী ও চুয়াডাঙ্গায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় দুই যুবকের মৃত্যুদন্ড

খবর ডেস্ক |
০১:৪৩ এ.এম | ২১ জুলাই ২০২৬


মাগুরা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনায় ও  চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই যুবককে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন পৃথক দু’টি আদালত। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
মাগুরা : মাগুরায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামে রাজিয়া খাতুনের ওপর ধর্ষণের চেষ্টা চালায় হাসান শেখ। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তিনি রাজিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গলা কেটে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নিহতের বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন।
নিহতের মা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে রাজিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ে সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা দ্রুত মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, এ রায় বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এড. মনির হোসেন বাবলু জানিয়েছেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ সংঘটিত এ মর্মান্তিক ঘটনা মাগুরা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সে সময় জেলার বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
চুয়াডাঙ্গা : জেলার জীবননগরে এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মোঃ আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার ওই শিশু তার ছোট বোন ও প্রতিবেশী আরও দুই শিশুকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এক ব্যক্তি তাকে ভালো জায়গা থেকে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি একাই ফিরে এলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় অন্য শিশুরা পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভুট্টাক্ষেত থেকে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন জীবননগর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে জীবননগর থানার এসআই মোঃ সাইফুল ইসলাম গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার তদন্তে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একইসঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। 
এদিকে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এড. এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, এটি একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।
চুয়াডাঙ্গা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক একরাম বলেন, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কঠোর পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ