খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফুলতলায় চাঞ্চল্যকর সাব্বির হত্যা

দীর্ঘ ৪ মাস পর এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেফতার

ফুলতলা প্রতিনিধি |
০১:৫০ এ.এম | ২১ জুলাই ২০২৬


ফুলতলার চাঞ্চল্যকর কিশোর সাব্বির হোসেন (১৯) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ ও ৩ নম্বর আসামিকে দীর্ঘ চার মাস পর গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো দামোদার (জমাদার পাড়া) এলাকার জাহাঙ্গীর জমাদ্দারের ছেলে মাহিন জমাদ্দার (৪০) এবং সুফিয়ান জমাদ্দার (১৮)।
জানা যায়, থানার এস আই শফিউজ্জমানের নেতৃত্বে পুলিশ গত রোববার সকাল ৯টায় উপজেলার গোডাউন ঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তবে বিষয়টি প্রকাশ না করে গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা চালায় থানা পুলিশ। সোমবার বেলা ২টার দিকে আসামিদের খুলনার আদালতে ও কারাগারে প্রেরণের সময় থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে ফুলতলা থানার ওসির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এজাহার সূত্রে জানা যায় গত ১৬ এপ্রিল রাত পৌনে ৮ টায় ফুলতলা থানাধীন দামোদার (জমাদারপাড়া) গ্রামে সাব্বির হোসেন তার বন্ধু স্বাধীনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। ৪-৫ দিন আগে ২ ও ৩ নম্বর আসামি (সিজান ও সুফিয়ান) ভিকটিম সাব্বিরদের বাড়ির পাশে মাদক সেবন করতে এলে সাব্বির তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং সুযোগ খুঁজছিল। ঘটনার রাতে ১ নম্বর আসামি মাহিন জমাদ্দার পেছন থেকে সাব্বিরকে জাপটে ধরে এবং ৩ নম্বর আসামি সুফিয়ান জমাদ্দার ও অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে আটকে রাখে। এ সময় ২ নম্বর আসামি সিজান জমাদ্দার তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে সাব্বিরের পেটে নাভির ওপর সজোরে পোঁচ মারে, যার ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বন্ধু স্বাধীন (১৬) ও নিরব (২২) কে ও নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই সাব্বির মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ১৭ এপ্রিল নিহত সাব্বিরের পিতা এস.এম গোলাম মোস্তফা সরদার বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে ফুলতলা থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৭) দায়ের করেন।
হত্যাকান্ডের দীর্ঘ চার মাস পার হলেও প্রধান আসামিরা অধরা থাকায় নিহত সাব্বিরের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ দিন পর ১ ও ৩ নম্বর আসামি গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার প্রধান অভিযুক্ত ২ নম্বর আসামি সিজান জমাদ্দার সহ অন্যান্যদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ