খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিক্ষোভ, আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ছাড়লো পুলিশ

খবর প্রতিবেদন |
১২:৩৩ এ.এম | ২২ জুলাই ২০২৬


বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।
এদিকে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশী আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কথিত ‘আরশোলা’দের সমর্থনে নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। তিনি সারা রাত অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর দিল্লির ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে রাহুল গান্ধীকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে একটি গাড়িতে করে তাকে সেখান থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতাকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করে দিল্লি পুলিশ। সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য অখিলেশ যাদবকেও আটক করা হয়েছে। তবে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি। 
এদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও আটক করে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার রাতেই থানায় যান কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। পরে তিনিও সেখান থেকে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে দূরে থাকতেই পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। কয়েক ঘণ্টা পরে পুলিশ বিক্ষোভটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রাস্তার উপর বসে থাকা রাহুল সরতে অস্বীকার করলে তাকে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য ঘিরে ধরেন। অবশেষে তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। ওই সময় প্রিয়াঙ্কাসহ অন্যান্য নেতাদেরও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রাহুলকে ছাত্রাসাল স্টেডিয়াম থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে মন্দির মার্গ থানায় ছুটে যান সোনিয়া গান্ধী। এরপরই পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে ছেড়ে দেয়। তবে রাহুলকে এখনো থানায় আটক রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সোমবার ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী দিল্লির যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে, সোমবার ভারতের সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পথযাত্রায় পুলিশী এ্যাকশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাজপথে নামেন কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা। তারা ছাত্রদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গণমিছিল করেছি।’
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, কিংবা সংসদে এ নিয়ে কোনো গঠনমূলক বিতর্কেও জড়াতে রাজি নয়। ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারকে সরাসরি দায়ী করে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা মোদিবিরোধী নানা স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সরাসরি এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। 
এনডিটিভি জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
এর আগে, সংসদ অধিবেশনের আগে মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস নেতা লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানান।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, ‘আজ বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে লোকসভার মাননীয় স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলাম। আমাদের দাবি সোজা-গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নৃশংসতা এবং পরীক্ষা-সংকট নিয়ে সরকারের সম্পূর্ণ জবাবদিহির অভাবের বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলায় শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে রাহুল বলেন, ‘সংসদ যদি ভারতের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে না পারে, তাহলে এর উদ্দেশ্য কী?’
বিষয়টি চাপা পড়তে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। আমরা এই বিষয়টি চাপা পড়তে দেব না। আমরা নিশ্চিত করব, যাতে রাস্তায় এবং সংসদে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়।’ 
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ