খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃক্ষমেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কেড়ে নিলো স্ট্রবেরি পেয়ারা

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:০৬ এ.এম | ২২ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় ক্রেতা, দর্শনার্থীদের ও বৃক্ষপ্রেমিদের নজর কেড়ে নিলো স্ট্রবেরি পেয়ারা। পেয়ারাগুলো মৌসুমী নার্সারীর স্টলে যেমন শোভা পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে নজর কেড়ে নিয়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের। চারাগুলো অল্প দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহটাও বেশি। গাছটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে আসছে। এখান থেকে পাখি, প্রাণী এবং মানব অভিবাসনের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন ক্রান্তীয় ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের বীজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। 
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, স্ট্রবেরি পেয়ারা (Psidium cattleianum) মূলত দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলের গাছ, যার আদি নিবাস ব্রাজিলের উপকূলীয় নিম্নভূমি ১৮০০-এর দশকের শুরুতে সুস্বাদু ফলের জন্য এটি হাওয়াইসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এর অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এটি অনেক অঞ্চলে আক্রমণাত্মক আগাছা হিসেবে বিবেচিত হয়। স্ট্রবেরি পেঁয়ারা প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Psidium cattleianum। এটি ইংরেজ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী উইলিয়াম ক্যাটলির সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে। গাছটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে আসছে। এখান থেকে পাখি, প্রাণী এবং মানব অভিবাসনের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন ক্রান্তীয় ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের বীজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। মিষ্টি এবং সুস্বাদু ফলের কারণে ১৮০০-এর দশকের গোড়ার দিকে স্ট্রবেরি পেয়ারা হাওয়াইয়ে আনা হয়। ১৮৮০-এর দশকের দিকে এটি ফ্লোরিডায় নিয়ে আসা হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে গাছটি খুব দ্রুত বনভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। হাওয়াই, ফ্লোরিডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মত জায়গায় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কারণ এর ঘন ঝোপ স্থানীয় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ (যেমন বাংলাদেশ ও ভারত) বর্তমানে বিশ্বের অনেক জায়গায় শোভাবর্ধক গাছ (ornamental) এবং বাগানের ফসল হিসেবে স্ট্রবেরি পেয়ারার চাষ করা হয়। সাধারণ পেয়ারার তুলনায় এটি আকারে বেশ ছোট, গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ জাতীয় গাছ হয় (সাধারণত ৬ থেকে ২০ ফুট লম্বা)। এর ফলগুলো সাধারণত ছোট মার্বেলের আকারের হয় এবং পাকলে গাঢ় লাল, বেগুনি বা হলুদ রঙের হয়ে থাকে। স্ট্রবেরির মত স্বাদ থাকার কারণেই একে ‘স্ট্রবেরি পেয়ারা’ বলা হয়। স্ট্রবেরি পেয়ারার আকার, ফলন এবং গাছের বাহ্যিক গঠন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে এর নাম ‘স্ট্রবেরি পেয়ারা’ হওয়ার কারণ হলো এর স্বাদে স্ট্রবেরির একটি হালকা স্বাদ ও সুবাস পাওয়া যায়। 
মেসার্স মৌসুমী নার্সারীর গাজী কামরুজ্জামান বলেন, স্ট্রোবেরি পেয়ারা গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকা। 
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গত সোমবার ১ হাজার ৪৮৮টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬০ টাকা। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ