খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

আমরা এক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি : হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১১:৩১ পি.এম | ২২ জুলাই ২০২৬


কুমিল্লা ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সংগঠক (দক্ষিনাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমরা একটি বৈষম্যহীণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা জুলাই আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল করেছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি এনসিপি আপনাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকবে। বৈষম্যহীণ বাংলাদেশ বিনির্মান হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে ‘জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে আমরা এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিব, যে প্রার্থীর কাছ থেকে সেবা পেতে আপনাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় লাগবে না। আপনাদের অর্থের বিনিময়ে সেবা নেওয়া লাগবে না। যারা দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায় এনসিপি তাদেরই মনোনয়ন দিবে। অসহায় মানুষের পাশে থাকার সুযোগ দিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহবান জানান এই নেতা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির বাগেরহাট জেলা সমন্বয়ক মোরশেদ আনোয়ার সোহেলের সভাপত্বিতে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম-আহবায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন রনি, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহবায়ক জাহিদ আহসান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ন মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, খুলনা বিভাগীয় এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক প্রমুখ।

জুলাই আন্দোলনে নারীদের অগ্রনী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু বলেন, নারীদের রাজনৈতিক সচেতন করতে হবে। কারন আমরা ৫১% নারী। আমরা যখন সিদ্ধান্ত নিব, অমুক সরকার থাকবে তখন সেই সরকার থাকবে। নারীরা যখন সিদ্ধান্ত নিবে অমুক নেতা থাকবে, তখন সেই নেতা থাকবে। নারীরা কিন্তু সংখ্যায় বেশি এবং এই জুলাই আন্দোলনে স্ফুলিঙ্গ ছিল নারীরা। এই নারীরা যখন জেগে উঠবে, যখন নিজেদের অধিকার বুঝবে তখন এদেশে তাদের সন্তানরা ভালো লাগবে, তাদের স্বামীরা ভালো থাকবে, পরিবার ভালো থাকবে। তাই সেই জায়গা থেকে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এনসিপি থেকে ছয়জন এবং নারী দুইজন এমপি পদ পেয়েছি। এই আটজনের কণ্ঠস্বর কিন্তু টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত পৌছে গেছে। এই আটজনকে সবাই চিনতেছে। সবাই জানে এই আটজন সারা বাংলাদেশের প্রয়োজন নিয়ে কথা বলছে। আমরা আপনাদের অনুরোধ করবো, এই যে তরুণরা নতুন রাজনীতিতে আসছে তাদের আপনাদের সাপোর্ট দিতে হবে।

সভায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে আসার বিষয় নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব সরোয়ার তুষার। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। আজকে তারা দিল্লির অন্ধকারে ধুকেধুকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। যখন এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ শাসন বাংলাদেশের ছিল তখনো বাংলাদেশের জনগণ, ছাত্র জনতা আমরা সিনা টানটান করে তাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।

বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ সংস্কার চায় দেশের পরিবর্তন চাই। গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে মানুষের যে আবেগ সেটিকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করছে। এবং সেটিকে আত্মসাৎ করেছে। এখন তারা বলছে গণভোট অসংবিধানিক। গণভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে বিএনপি নামক যে দল আছে তাও অবৈধ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ