খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই ২০২৬ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় রান্না করা মাংস সবুজ রঙ ধারণ করায় চাঞ্চল্য

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
০১:৪৮ এ.এম | ২৩ জুলাই ২০২৬


পাইকগাছা পৌরসভা বাজারের এক মাংসের দোকান থেকে কেনা গরুর মাংস রান্না করার সময় অদ্ভূতভাবে সবুজ রঙ ধারণ করার ঘটনা ঘটেছে। বাসি মাংসে কেমিক্যাল বা ফরমালিন ব্যবহারের কারণে এমনটি হতে পারে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং থানা পুলিশকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।
জানা যায় পৌর এলাকার ‘মডার্ন বেকারি’র কর্মচারীরা সহকর্মীদের নিয়ে বনভোজনের (পিকনিক) উদ্দেশ্যে মাংস কিনতে পৌর বাজারের ইসমাইলের মাংসের দোকানে যান। বেকারির কর্মচারী ও বিরাশি গ্রামের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম (৩০) জানান, আমরা সকালে ইসমাইলের দোকানে গেলে তিনি জানান আজকের তাজা মাংস শেষ হয়ে গেছে। তবে গতকালের মাংস ফ্রিজে আছে, সেটা দেওয়া যাবে। পিকনিকের আয়োজন ভেস্তে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়েই আমরা ফ্রিজে রাখা সেই মাংস কিনে নিয়ে আসি।
পরবর্তীতে বেকারির বাবুর্চি মাংস কড়াইতে দিয়ে মসলা সহযোগে কষানোর সময় লক্ষ্য করেন মাংসটি অস্বাভাবিকভাবে সবুজ রঙ ধারণ করছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে জানানো হলে বেকারির কর্মচারীরা রান্নাকৃত মাংসের কড়াইসহ ইসমাইলের দোকানে নিয়ে যান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, আমার বিশ্বাস আমার মাংসে কোনো সমস্যা নেই, আমি ভালো মাংসই দিয়েছি। ওই দিনের মাংস আরও অনেকেই কিনে নিয়েছেন। মাংসে কোনো সমস্যা থাকলে অন্য ক্রেতাদেরও সমস্যা হতো, কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্য কেউ আমার কাছে এসে এমন কোনো অভিযোগ করেনি।
পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীরা রান্নাকৃত মাংসের কড়াই নিয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী বলেন, মাংস ক্রেতারা কড়াই ভর্তি রান্না করা মাংস নিয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি তাদের থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি এবং থানা পুলিশকে ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি।
স্থানীয়দের মতে, বাসি বা পচা মাংসে ফরমালিন কিংবা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হলে রান্নার সময় তা বিক্রিয়া করে রঙ পরিবর্তন হতে পারে। তবে বিষয়টি পরীক্ষাগারে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমেই কেবল চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উন্মোচিত হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ