খুলনা | শুক্রবার | ২৪ জুলাই ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ম্যাচ পাতানোর কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:১০ পি.এম | ২৩ জুলাই ২০২৬


রেফারিং নিয়ে বিতর্ক, কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে পুরো প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ শেষে ম্যাচ পাতানো কিংবা বাজিসংশ্লিষ্ট কারসাজির কোনো ইঙ্গিত পায়নি ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। ম্যাচ চলাকালে মাঠের কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জুয়ার বাজারেও নজর রেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

পুরো প্রতিযোগিতা থেকে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম কিংবা সম্ভাব্য ম্যাচ কারসাজির আভাস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে টাস্ক ফোর্স।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ছিল প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা টুর্নামেন্টের পর্দা নামে গত ১৯ জুলাই। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।

বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কয়েকটি ম্যাচের পর দলটিকে ফিফা ও রেফারিরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের একটি অংশ। ফাইনালের পর ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতেও অনলাইন আবেদন শুরু করেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।

তবে ফিফার ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্সের অনুসন্ধান কোনো নির্দিষ্ট রেফারিং সিদ্ধান্ত সঠিক বা ভুল ছিল কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য নয়। তাদের দায়িত্ব ছিল বেটিং সাইটের অস্বাভাবিক প্রবণতা, মাঠের সন্দেহজনক ঘটনা এবং ম্যাচের ফল কারসাজির সম্ভাব্য ইঙ্গিত শনাক্ত করা। ফলে টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদনকে রেফারিং-সংক্রান্ত সব বিতর্কের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্বকাপ চলাকালে সদস্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া বেটিং পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংগ্রহ করেছে ফিফা। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য থাকা অভিযোগ জানানোর মাধ্যমগুলো দিয়ে পাওয়া তথ্যও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংগৃহীত তথ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে বিশ্লেষণ করে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হয়। কোনো সতর্কসংকেত পাওয়া গেলে দ্রুত যাচাই এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

ফিফার জ্যেষ্ঠ ইন্টেগ্রিটি ব্যবস্থাপক লিয়াম রিচ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে কার্যকর কাঠামো তৈরি করেছিল টাস্ক ফোর্স। বিশ্বকাপজুড়ে কাজ করা সব সদস্যের দক্ষতা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।

এই টাস্ক ফোর্সে এএফসি, সিএএফ, কনকাকাফ, কনমেবল, উয়েফা ও ওএফসিসহ ছয় মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা ছিল। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনের পাশাপাশি যুক্ত ছিল এফবিআই, ইন্টারপোল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর।

এ ছাড়া স্পোরট্রাডার, ইন্টারন্যাশনাল বেটিং ইন্টেগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশন, জিনিয়াস স্পোর্টসসহ বেটিং পর্যবেক্ষণ ও ক্রীড়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়।

ভবিষ্যতের ফিফা প্রতিযোগিতাগুলোতেও এই যৌথ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চলতি বছরের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং ২০২৭ নারী বিশ্বকাপেও ম্যাচ কারসাজি ঠেকাতে একই ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ