খুলনা | শুক্রবার | ২৪ জুলাই ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জেন-জি বিক্ষোভ ঠেকাতে মোদির নতুন কৌশল!

খবর প্রতিবেদন |
০৩:২৪ পি.এম | ২৩ জুলাই ২০২৬

 

ভারতে চলমান জেন-জি বিক্ষোভে পুনরায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে নতুন কৌশল নিয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের ফোন করা, হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের জেরে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগভিত্তিক নজরদারি শুরু করেছে। খবর এনডিটিভির।

যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা (এফআইআর) রয়েছে বা যাদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, স্থানীয় থানা থেকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটেও দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা বাড়িতে আছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ছাড়া মুম্বাই ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। তারা পরিবারের সদস্যদের চলমান তদন্তের বিষয়ে অবহিত করছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে জনসমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো ও রেলস্টেশনের প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে, যাতে তল্লাশির সময় দ্রুত তাদের শনাক্ত করা যায়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ব্যবস্থা প্রতিরোধমূলক। তাদের ভাষ্য, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে তা ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং চাকরির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাদের এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন পর্যবেক্ষণ, বার্তা আদান-প্রদান নজরদারি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ প্রচলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা অতিক্রম করেছে।

তাদের মতে, এসব উদ্যোগ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন চলাচলের অধিকারের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবারও মুম্বাইয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর-মন্তরে বৃহস্পতিবারও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান সিজেপি সমর্থকরা। তাদের দাবি, নিট-ইউজি ২০২৬-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ