খুলনা | শুক্রবার | ২৪ জুলাই ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নগরীতে লবণচরায় বাবা-মেয়ে খুন ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১০:৫৭ পি.এম | ২৩ জুলাই ২০২৬


২০১৫ সালে খুলনার লবণচরায় ধর্ষণের পর ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা এবং একই সময়ে তার বাবা হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং ধর্ষণ মামলায় ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আল আসাফুর আলী রাজা, মোঃ নাজিমুদ্দীন ও মোঃ মাহমুদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ ইমাম হোসেন তারেক। 
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাইফুল ইসলাম পিটিল, তার ভাই শরিফুল ইসলাম, মোঃ লিটন, আজিজুর রহমান পলাশ ও আবু সাঈদ। মামলার সব আসামি কারাগারে রয়েছে।২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা এলাকার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ পাড়ায় ঢাকাইয়া হাউজে বাবা ইলিয়াস চৌধুরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানাকে হত্যা করে আসামিরা। হত্যার পর তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে আসামিরা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রথমে লবণচরা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন পারভীনের ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব। মামলার তদন্ত পর্যায়ে গ্রেফতার করা হয় আসামি মোঃ লিটনকে। গ্রেফতারের পর আসামি লিটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে উঠে আসে হত্যার আগে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীনকে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এই জবানবন্দির পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় ঘটনার চারদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। দু’টি মামলার বিচার হয় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ। সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৯ সালে দু’টি মামলায় রায় দেওয়া হয়।
রায়ে পারভীন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মোঃ লিটন, সাইফুল ইসলাম পিটিল, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান ওরফে পলাশ ও শরিফুল আলমকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন।
রায় ঘোষণার পর মামলার বাদি রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ১১ বছর পর আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। এবার রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
বাদীর পক্ষে প্রথম থেকে আইনি সহযোগিতা দেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই রায়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। ন্যায়বিচারের এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন-সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ