খুলনা | শুক্রবার | ২৪ জুলাই ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

টক অব দ্য কান্ট্রি

পাইকগাছায় চাঞ্চল্যকর রান্না করা গরুর মাংস গাঢ় সবুজ রহস্যের জট খোলেনি

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
০২:২৭ এ.এম | ২৪ জুলাই ২০২৬


রান্না করা গরুর মাংসের রং হঠাৎ গাঢ় সবুজ! খুলনা জেলার পাইকগাছায় ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ঘটনার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়া এবং সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। রহস্য উন্মোচনে প্রশাসন, সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন মাংসের নমুনা জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাংস বিক্রেতা ও বেকারির কর্মচারীরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। গত বুধবার সকালে পাইকগাছা পৌর বাজারের কসাই ইসমাইল গাজীর দোকান থেকে মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মচারী ২ হাজার ৭৫০ টাকায় প্রায় ৪ কেজি গরুর মাংস কেনেন।
বেকারির হেড মেকার টিটন হোসেন রাকিব জানান, প্রতিষ্ঠানের ১৪-১৫ জন কর্মচারীর পিকনিকের জন্য সকালে মাংস কিনে দুপুরে রান্নার আয়োজন করা হয়। বেকারির বাবুর্চি খায়রুল ইসলাম প্রয়োজনীয় মসলা প্রস্তুত করে দেন। কড়াইতে মসলা কষানোর পর মাংস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাংসের টুকরোগুলো গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো মশলা ও ঝোলের রং অপরিবর্তিত ছিল।
রাকিবের অভিযোগ, মাংস বিক্রেতা ফ্রিজে রাখা বাসি ও ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রি করার কারণেই এই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী নির্দেশে  থানা পুলিশ এবং উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল রান্না করা মাংস এবং বিক্রেতার ফ্রিজে থাকা কাঁচা মাংস জব্দ করেন।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল গাজী বলেন, বাসি বা ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। ওই দিন বেকারির কর্মচারীদের ছাড়াও আরও ৫ জন ক্রেতা একই গরুর মাংস কিনেছেন, এমনকি আমার নিজের বাড়িতেও তা রান্না হয়েছে। কিন্তু বেকারি ছাড়া অন্য কেউ এমন কোনো অভিযোগ করেনি। তার দাবি, বেকারির কর্মচারীদের কেউ হয়তো ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো রাসায়নিক তরল মিশিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বেকারির মালিক আবদুল্লাহ জহির উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে চকলেট পাউডার ছাড়া অন্য কোনো কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। কর্মচারীরা কেন এমন করবে?
রান্না করা ও ফ্রিজের কাঁচা মাংস জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল জানান, মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানতে ল্যাব টেস্টের বিকল্প নেই। ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করা যাবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ