খুলনা | শনিবার | ২৫ জুলাই ২০২৬ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৫ পি.এম | ২৪ জুলাই ২০২৬

 

বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাধ্যতামূলক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে এ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদও শেষ হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এ পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্কনীতি পুনর্বহালের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘রেসিপ্রোক্যাল’ শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দেন।

বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর এ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ কয়েকটি পণ্য এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।

নতুন শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ আইনের অধীনে শুল্ক আরোপ করলে তা আগের ব্যবস্থার তুলনায় আইনি চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে আসছে। এখন বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এসেছে। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।’

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ ২২টি দেশ ও অঞ্চলের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। যদিও এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বেইজিং।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির আলোচনায় যে ২০ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ হয়েছিল, ভবিষ্যতে চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে সেই হার পর্যন্ত পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বেশি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ