খুলনা | শনিবার | ২৫ জুলাই ২০২৬ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাফিলতি বা অবহেলা তদন্তে পৃথক দু’টি কমিটি গঠন

খুবির ছাত্রী হলসমূহের ক্যান্টিন পরিচালনা করবে নারী কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩১ এ.এম | ২৫ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে হলসমূহের ক্যান্টিনে কর্মরত ব্যক্তিদের মোবাইল সাথে রাখা নিষিদ্ধ, ক্যান্টিন পরিচালকের চুক্তি বাতিল এবং ছাত্রী হলসমূহের ক্যান্টিন শুধুমাত্র নারী কর্মী দ্বারা পরিচালিত হবে। বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের একটি সামারি রিপোর্ট তৈরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং সকল স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিনের প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভাগীয় পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। এর আগে উদ্ভ‚ত সমস্যা সমাধানে ২৩ ও ২৪ জুলাই একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, বিজয় ২৪ হলে ঘটে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমব্যথি। 
আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করায় অভিযুক্ত ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রূপা মণিকে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ধারা ৮(২), ৮(৩), ৮(৫) (ক) ও ৮(৭)-এর আওতায় জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করা হয়। একই দিনে বিকাল ৫টায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা দুজন ১৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় কারাগারে আছে।
সিদ্ধান্ত সমূহ : ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে হলসমূহের ক্যান্টিনে কর্মরত ব্যক্তিদের মোবাইল সাথে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উক্ত হলের ক্যান্টিন পরিচালকের চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী হলসমূহের ক্যান্টিন শুধুমাত্র নারী কর্মী দ্বারা পরিচালিত হবে। ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও হলের প্রভোস্টের সাথে ছাত্রীদের আলোচনার প্রেক্ষিতে শনিবার বিজয় ২৪ হলের বাথরুমে কোনো গোপন ক্যামেরা আছে কি না তা এক্সপার্ট দিয়ে চেক করা হবে। 
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সার্বিক ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্তে হল কর্তৃপক্ষ ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। 
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে সম্পাদিত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সামারি রিপোর্ট তৈরি করবে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় যে কেউ/সংশ্লিষ্ট পক্ষ উক্ত রিপোর্টের অনুলিপি প্রাপ্ত হবেন। রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী/সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পুনঃতদন্তের আবেদন করলে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলামের বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন গেটের তালা খুলে দেওয়ার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং জরুরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় বলা হয়, স্পন্দন ২৪ শীর্ষক শিক্ষার্থীদের সংগঠন যেহেতু শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়েছে, সেহেতু সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রাপ্তির পর বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন বিধি ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে বদ্ধপরিকর এবং এই কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভ‚মিকা একান্ত কাম্য। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ