খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিনামূল্যে ভেরিফাই করা যাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, মানতে হবে যেসব শর্ত

খবর প্রতিবেদন |
০২:৪৭ পি.এম | ২৫ জুলাই ২০২৬

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ বলতেই এতদিন আমরা বুঝেছি খ্যাতনামা ব্যক্তি, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কিংবা অর্থের বিনিময়ে নেয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সেবা। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের আওতায় আনতে নতুন একটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।

মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তারা একদম বিনামূল্যে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ ব্যবস্থা চালু করছে। মূলত অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে কোনো ভুয়া আইডি নয়, বরং একজন সত্যিকারের মানুষ রয়েছে- তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন এই ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাটির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।

পদ্ধতি: ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে।

যাচাইকরণ: মেটা সেই ভিডিও সেলফিটির সঙ্গে প্রোফাইলে থাকা বিদ্যমান ছবি মিলিয়ে অ্যাকাউন্টধারীর পরিচয় নিশ্চিত করবে।

সময়সীমা: মেটার দাবি অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক মিনিট।

কারা পাবেন এই ভেরিফাইড ব্যাজ?
বিনামূল্যের এই সুবিধাটি পেতে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।
২. ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বা নীতিমালা মেনে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে হবে।
৩. অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় উপস্থাপন বা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না।
৪. মেটার ভিডিও সেলফি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় সফল হতে হবে।

যাচাই সফল হলে ব্যাজটি প্রোফাইল, ফেসবুক গ্রুপ, মার্কেটপ্লেস এবং ফেসবুক ডেটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান হবে।

‘মেটা ভেরিফাইড’ থেকে এটি কীভাবে আলাদা?
‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ও প্রচলিত ‘মেটা ভেরিফাইড’ সেবা দুটিকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না, কারণ দুটির উদ্দেশ্য ও সুবিধা ভিন্ন:

ফেসবুক ভেরিফাইড: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে। এটি কেবল সাধারণ পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে এবং এর সঙ্গে বাড়তি কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা মিলবে না।

মেটা ভেরিফাইড: এটি একটি মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা। ব্লু ব্যাজের পাশাপাশি এতে অগ্রাধিকারমূলক গ্রাহক সহায়তা, অ্যাকাউন্ট চুরি হওয়া থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষা এবং বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়।

মেটার এই উদ্যোগের পেছনের কারণ
বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে খুব সহজেই ভুয়া ছবি ও ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা অনলাইনে জালিয়াতি ও প্রতারণা বাড়াচ্ছে।

মেটা আশা করছে, নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে অন্তত এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ইন্টারঅ্যাকশন করা অন্য প্রান্তের আইডিটি একজন আসল মানুষের। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- এই ব্যাজ শুধুই পরিচয় নিশ্চিত করে; ব্যক্তির সততা, চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার কোনো গ্যারান্টি দেয় না।

কবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?
মেটা জানিয়েছে, ফিচারটি ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিক অবস্থায় নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য দেশে দেয়া হবে। তবে শুরুর তালিকায় কোন কোন দেশ থাকছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচেতনতা বার্তা
অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি ঠেকাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটি কেবল মানুষ হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করে, ব্যক্তির ট্রাস্টওয়ার্দিনেস নয়। তাই অনলাইনে আর্থিক লেনদেন বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ