খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

চট্টগ্রামে দাফন আজ

শহীদ জায়া মুশতারী শফী আর নেই

খবর প্রতিবেদন |
০১:০০ এ.এম | ২১ ডিসেম্বর ২০২১


একাত্তরের রণাঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখা নারী নেত্রী ও শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী আর নেই (ইন্নালিল­াহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...আমরা তো আল­াহর এবং আমরা আল­াহর কাছেই ফিরে যাবো)। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বেগম মুশতারী শফীর জামাতা আবদুল­াহ জাফর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি সাত ছেলে-মেয়ে রেখে গেছেন। একাত্তরে মুশতারী শফীর স্বামী ডাঃ মোহাম্মদ শফীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
৮৪ বছর বয়সী মুশতারী শফী কিডনি, রক্তে সংক্রমণসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
মুশতারী শফীর ছেলে মেহরাজ তাহসীন শফী জানান, তার মরদেহ মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন করা হবে।
১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুশতারী শফীর জন্ম। তার বাবার বাড়ি ফরিদপুরে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৭ এপ্রিল তার স্বামী চিকিৎসক মোহাম্মদ শফী ও ছোট ভাই এহসানুল হক আনসারীকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দিন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দ সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন বেগম মুশতারী।
নারী অধিকার আদায়ে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন মুশতারী শফী। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ‘বান্ধবী’ নামে মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের নারীদের জন্য দ্বিতীয় সাময়িকী।
একাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম সংগঠক। মুশতারী শফী ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’, ‘চিঠি’, ‘জাহানারা ইমামকে’ এবং ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’ প্রভৃতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখায় ২০১৬ সালে শহীদজায়া মুশতারী শফীকে ফেলোশিপ দেয় বাংলা একাডেমি। ২০২০ সালে পান বেগম রোকেয়া পদক এই মহীয়সী নারী।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ