খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি : ফেঁসে যাচ্ছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি চুপ্পু, তদন্তে দুদক

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৮ এ.এম | ২৬ জুলাই ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও তার সংশ্লিষ্ট কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোপূর্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ ব্যাপারে অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশনা দেয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শনিবার আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জেএমসি বিল্ডার বিতির্কিত ব্যবসায়ী ও হাসিনা আমলের অর্থ পাচারের অলিগার্ক এস আলমের মালিকানাধীন কোম্পানি হলেও শেয়ারের অধিকারী ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। 
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন হলেও শেয়ারের প্রকৃত সুবিধাভোগী ছিলেন চুপ্পু।
তদন্তে আরও জানা যায়, শেয়ার কেনার অর্থ জোগাড় করা হয় ইসলামি ধারার আরেক ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে, যেটিও এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ব্যাংকটি থেকে বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগও উঠে আসে।
বিএফআইইউ’র অনুসন্ধানে এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে আসার পর সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে জেএমসি বিল্ডার্স কোম্পানিরই অন্যতম মালিক ও প্রতিনিধি হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনায় জড়িত ছিলেন তিনি। সেই শেয়ার কেনার অর্থও লুট করা হয় এস আলমের দখলকৃত ইসলামী ধারার আরেক ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে। এ ভুয়া কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ব্যাংকটি থেকে লুটপাট করা হয় বিপুল অর্থ। বিএফআইইউ’র তদন্তে এসব তথ্য ওঠে আসে এবং সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ কোম্পানির অন্যদেরও অভিযুক্ত করা হয়। 
এর আগে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে দায়ের করা মামলাটিও তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছিল ঢাকার একটি আদালত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ