খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

খানজাহান আলী বিমান বন্দর পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

বিমানবন্দর চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অভূতপূর্ব গতি আসবে

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৪৩ এ.এম | ২৬ জুলাই ২০২৬


বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর যাতায়াত সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের প্রসারে এই খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুপ্রতিম দেশ চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর এলাকা স্বচক্ষে পরিদর্শন করতে এখানে এসেছেন। তারা স্থানটি উপযুক্ত মনে করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ দেশের প্রতিটি অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে, হবে। এই বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন এবং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মাণ কাজ পুনরায় চালু করতে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক।
গতকাল শনিবার বিকেলে বাগেরহাটের ফয়লা হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) বিমান বন্দরস্থল সরেজমিন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা-বাগেরহাট এলাকার নিকটবর্তী রামপালের ফয়লাহাটে ১৯৯৬ সালে প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অবহেলা শিকার উল্লেখ করে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা এই প্রকল্পে অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, চায়না বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করে একনেক’র মাধ্যমে খুব শীঘ্রই সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তাহলে এই বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হবে। বিমান বন্দরটি চালু করতে পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা দেশবাসীকে তারেক রহমানের সরকার একটি চমৎকার উপহার দিতে পারবো।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ চেয়ারম্যান এড. এস এম শফিকুল আলম মনার মধ্যস্থতায় চায়না বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশে বিগত ত্রিশ বছর উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. পিটার-এঁর নেতৃত্বে একটি টীম বিমানবন্দর প্রকল্পস্থল পরিদর্শনকালে স্থানটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এসময়ে কেডিএ চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, মোংলা বন্দরের বিপুল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, ইপিজেডের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং সুন্দরবনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরের প্রয়োজনীতা এখন সময়ের দাবি। চীনা বিনিয়োগকারী বন্ধুদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে চাই এই বিমানবন্দর প্রকল্পটি কেবল একটি পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি লাভজনক ও কৌশলগত সংযোগস্থল (Strategic Hub) তৈরির সুবর্ণ সুযোগ। চায়না প্রতিনিধি দলটি জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল পাঠিয়েছেন। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করবেন।
পরিদর্শনকালে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, রামপাল উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, মোংলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ মান্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ