খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে, শীর্ষে খুলনা ও বরিশাল

শামিম আশরাফ শেলী |
০১:৪৪ এ.এম | ২৬ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার থেকে ছয় লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয়, যার মধ্যে প্রায় ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। মূলত বর্ষাকালেই সাধারণত মানুষ সাপের আক্রমণের শিকার হয়। 
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সাপের দংশনে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার এত বেশি হওয়ার প্রধান কারণ বেশির ভাগ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করে, ফলে সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না এবং অক্রান্ত মানুষেরা মৃত্যু বরণ করেন। চিকিৎসকদের অভিমত সাপের কামড়ে আক্রান্ত মানুষকে কোন ভাবেই ওঝা বা কবিরাজের নিকট নয় যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, কারণ এর একমাত্র চিকিৎসা অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন।
সতর্কতাঃ বিষাক্ত সাপে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সময় পাওয়া যায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টা। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে, কারণ একমাত্র অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন ছাড়া বিষধর সর্প দংশনের আর কোনো চিকিৎসা নেই।
বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ : বিষধর সাপে কামড়ালে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অতিরিক্ত ঘাম, বমি, চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট এবং পেশী দুর্বল ও অবস হওয়ার মত লক্ষণ প্রকাশ পায়।
বিষের ধরন অনুযায়ী শারীরিক পরিবর্তনগুলিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
নিউরোটক্সিক বিষ (গোখরো সাপ) : এই বিষ সরাসরি স্নায়ুতন্ত্র এবং মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। এর প্রভাবে চোখের পাতা ঝুলে পড়ে, কথা বলতে ও ঢোক গিলতে সমস্যা হয় এবং শ্বাসযন্ত্র অবশ হয়ে শ্বাস রোধে মৃত্যু হতে পারে। 
হেমোটক্সিক ও সাইটোটক্সিক বিষ (চন্দ্রবোড়া বা রাসেল ভাইপার : এই বিষ রক্ত জমাট বাধার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এবং কোষকলা ধ্বংস করে। ফলে আক্রান্ত স্থান দ্রুত পচে যেতে পারে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে অনবরত রক্তপাত ঘটে এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।
বাংলাদেশে সাপের কামড়ে সাধারণত পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয় কারণ এটি একাধিক প্রজাতির সাপের বিষ নিস্ক্রিয় করতে পারে, যেমন- গোখরো, কেউটে বা কালাচ, চন্দ্রবোড়া। 
অ্যান্টিভেনম কিঃ অ্যান্টিভেনম হ’ল বিষধর প্রাণীর (সাপ, বিচ্ছু, মাকড়সা) কামড় বা হুলের বিষ নিষ্ক্রিয় করার একটি জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক। সাধারণত ঘোড়ার দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে তার রক্ত থেকে প্রটিন সংগ্রহ করে এটি প্রস্তুত করা হয়।
খুলনা জেলার হাসপাতালগুলিতে বর্তমানে অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে কি-না জানতে চাইলে খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন সময়ের খবরকে জানান, জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রত্যেকটিতে দুই ভায়েল করে সাপের অ্যান্টিভেনম মজুত আছে।
খুলনা সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী সময়ের খবরকে বলেন, খুলনা সদর হাসপাতালে ইনসেপ্টা কোম্পানীর তৈরি পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম আছে তিন ভায়েল। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এর চেয়ে বেশী অ্যান্টিভেনম তাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডাঃ মোঃ আকতারুজ্জামান সময়ের খবরকে বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনশ’ ভায়েল অ্যান্টিভেনম মজুত আছে।
তবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রমতে সেখানে কোন অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় না, কারণ সেখানে উপযুক্ত টেকনিক্যাল বা কারিগরি ব্যবস্থাপনা নেই। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ