খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ‘আর্জেন্টিনাবিদ্বেষ’ ছড়ানোর দায়ে ১০ জনের নাম প্রকাশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৪:০৮ পি.এম | ২৬ জুলাই ২০২৬

 

ফুটবল দল সাজাতে প্রয়োজন ১১ জন। আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল অবশ্য ১০ জনেই কাজ সেরেছে। গোলকিপারবিহীন সেই ‘দলে’ মিসরের কোচ থেকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট, হলিউড অভিনেতা থেকে সাবেক পর্ন তারকা, জায়গা হয়েছে সবার। তাদের অপরাধ, বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো!

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জেতার পর কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।

পুরো প্রতিযোগিতাতেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে ছিল বিতর্ক। রেফারির সিদ্ধান্তে লিওনেল মেসির দল সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকে। আবার মাঠে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আচরণেরও কঠোর সমালোচনা হয়। এই সমালোচনার একটি অংশকে ‘আর্জেন্টিনোফোবিয়া’ বা আর্জেন্টিনাবিদ্বেষ হিসেবে দেখছে দেশটির গণমাধ্যম। আর এর জন্য দায়ী ১০ জনের নামও প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার এক টিভি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গিভ মি স্পোর্ট জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল তোদো নোতিসিয়াসের আলোচনায় সাংবাদিক জোনাতান ভিয়ালে বিশ্বকাপের সময় ‘আর্জেন্টিনাবিদ্বেষ’ ছড়ানোর জন্য দায়ী ১০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেন। ফুটবল দলের ছকে তাদের ছবিও দেখানো হয় চ্যানেলটির প্রকাশিত ভিডিওতে

ভিয়ালে দাবি করেন, সাংবাদিক, তারকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালিয়েছেন।

তালিকায় সবচেয়ে পরিচিত ফুটবল ব্যক্তিত্ব মিসরের কোচ হোসাম হাসান। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ফিফা মেসি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় রাখতে চেয়েছে। ম্যাচটির কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

আছেন ব্রিটিশ টিভি ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানও। ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লক্ষ্য করে মরগান আর্জেন্টিনা দলকে সহিংস ও ফুটবলের জন্য লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। দলটির হার দেখে আনন্দিত হওয়ার কথাও গোপন করেননি তিনি।

হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসনকে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ বলার কারণে। জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিডও জায়গা পেয়েছেন তালিকায়। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একাধিক প্রতিপক্ষকে সমর্থন করার পাশাপাশি সমর্থকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে স্পেনের জয়ও উদ্‌যাপন করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এই ভক্ত।

বাকি ছয়জন হলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্প্যানিশ গায়িকা রোসালিয়া, চিলিয়ান অভিনেতা পেদ্রো পাসকাল, স্প্যানিশ স্ট্রিমার ইবাই লানোস এবং সাবেক পর্ন তারকা মিয়া খলিফা। প্রকাশিত তালিকায় এই দশজনকেই বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সমালোচনার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও। তার দাবি, আর্জেন্টিনা সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকে বলেই দেশটিকে ঘিরে এত ঈর্ষা ও বিদ্বেষ। ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন।

তবে তোদো নোতিসিয়াসের এই তালিকা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল নয়। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করেছেন, এমন প্রমাণও দেওয়া হয়নি। এটি মূলত বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে একজন আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের তৈরি মতামতনির্ভর ‘আর্জেন্টিনাবিদ্বেষী দল’।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ