খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি # দখলকৃত খালের নাম লিখল পথচারীরা

বাগেরহাটে সরকারি নদ-নদী, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করার দাবিতে ব্যতিক্রম কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১১:৪৬ পি.এম | ২৬ জুলাই ২০২৬


বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নদ-নদী, খাল ও জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে যুব স্বেচ্ছাসেবকরা। রোববার সকাল ১০টায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণ ও যুবরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পাশে জড়ো হয়।
সরকারি খাল উন্মুক্ত চাই, খাল বাঁচাও কৃষক বাঁচাও, খাল মুক্তি কৃষকের স্বস্তি, দখলদ্বার তাড়াও খাল বাঁচাও এমন স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেয় তরুণরা। খাল মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা। অবৈধভাবে দখলকৃত নদী-খালের নাম বড় ব্যানারে লেখা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বরাবর খাল দখলমুক্ত করার জন্য বড় হরফে লেখা চিঠির নিচে স্বাক্ষর করেন তারা। তরুণদের সাথে একমত হয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন পথচারীরাও। সেই সাথে নিজ এলাকার দখল হওয়া খালের নাম লেখেন সাইনবোর্ডে এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠির নিচে স্বাক্ষর করেন পথচারীরা। 
আন্দোলনকারীদের দাবি বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকশ খাল দখল করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছে। কেউ কেউ খাল এবং সরকারি জলাশয়ের উপর অবৈধ পাকা স্থাপনা তৈরি করেছে। বাগেরহাট পৌরসভার অভ্যন্তরে থাকা ৮টি খালের বেশিরভাগ অংশ দখল হয়ে গেছে। এছাড়া সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল, হোজির খাল, কুমারগাড়িয়া খালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করছে। 
অবস্থানকারীরা জানান যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি করছেন, সেখানে বাগেরহাটে প্রতিনিয়ত খাল দখল করছেন প্রভাবশালীরা। আজকের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই অতি দ্রুত সরকারি নদী, খাল ও জলাশয় অবমুক্ত করতে হবে। না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এসব দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শেখ ইমরান নামের এক স্বেচ্ছাসেবি বলেন, বাগেরহাটের সব প্রবাহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক সময় এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন প্রভাবশালীরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছে। কৃষকের প্রয়োজনের সময় পানি আটকে রাখা হয়, আবার প্রয়োজন না থাকলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না। মাফুজ মাঝি নামের এক যুবক বলেন শুধু বাগেরহাট সদর নয়, রামপালেও একই চিত্র। ইয়াসিন খাল, ঝনঝনিয়ার খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই সব সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
পশ্চিমডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ বলেন মান্দারতলা খালসহ আমাদের এলাকার অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। খালগুলো উন্মুক্ত না থাকায় চিংড়ি চাষ ও কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা বহুবার মানববন্ধন, আবেদন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। দ্রুত খালগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ বলেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাল দখল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসবের প্রতিবাদ করতে পারে না। আমরা চাই সব সরকারি খাল দখলমুক্ত হোক এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খাল জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি কাজ করব। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সোমবার ও মঙ্গলবারও একই ধরণের কর্মসূচি পালন করার কথা জানিয়েছেন তরুণরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ