খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মিড-ডে মিলে শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম বন্ধ করুন

|
১২:০৪ এ.এম | ২৭ জুলাই ২০২৬


শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে দেশের ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিকে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কিন্তু স¤প্রতি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর জন্য সরবরাহ করা বানরুটির ভেতর আস্ত একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনা কর্মসূচিটির নিরাপত্তা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার এক ভয়াবহ ও কদর্য চিত্র উন্মোচন করেছে। ভাগ্যের জোরে শিশুটি রুটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে; কিন্তু প্রশ্ন ওঠে আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের খাবার নিয়ে এমন অব্যবস্থাপনা কেন বন্ধ হচ্ছে না?
গৌরনদীর ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক অঘটন নয়। এর আগে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারে পচা বা কাঁচা কলা, পচে যাওয়া সেদ্ধ ডিম এবং নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাসি খাবার সরবরাহের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত মে ও জুন মাসেও পচা খাবার সরবরাহের কারণে কোনো কোনো স্থানে গ্রেফতারের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। একটি অতি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পে কীভাবে বারবার এমন অনিয়ম ঘটতে পারছে? সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক ‘তদন্ত কমিটি’ গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা স্রেফ আমলাতান্ত্রিক দায়সারা উদ্যোগ বৈ কিছু নয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রুটি তৈরির প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ‘স্বয়ংক্রিয়’ বলে দায় এড়াতে চাইছে, কিন্তু প্যাকেটজাত খাবারের ভেতর ধারালো মেটাল বা ব্লেড পৌঁছে যাওয়া প্রমাণ করে, তাদের মাননিয়ন্ত্রণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে গাফিলতি রয়েছে।
প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত পুষ্টিকর খাবারের নামে যদি পচা-নষ্ট খাদ্য কিংবা মারাত্মক জীবনঘাতী উপাদান পৌঁছে দেওয়া হয়, তবে তা কেবল অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের নজির। মাঠপর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিদিনের কঠোর তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বেপরোয়া আচরণ করার সাহস পাচ্ছে।
আমরা মনে করি, শিশুদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা কোনো সাধারণ অবহেলা নয়, বরং এটি ফৌজদারি অপরাধ। গৌরনদীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে নির্দিষ্ট পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নিরপেক্ষ ও নিখুঁত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং দায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশন’সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশের সব স্কুলে সরবরাহ করা খাবারের সার্বক্ষণিক মান পরীক্ষার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে স্থানীয় মনিটরিং কমিটি গঠন করা জরুরি। কোমলমতি শিশুদের খাবার নিয়ে ব্যবসা ও অনিয়মের এই সুযোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ