খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

উৎপাদন তথ্য দিতে গড়িমসি, ১৮ ওষুধ কোম্পানির নথি তলব

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৮ এ.এম | ২৭ জুলাই ২০২৬


দেশের ওষুধ শিল্প থেকে সরকার প্রতি বছর আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। তবে এই খাতের ১৮টি শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। 
২০২১-২২ অর্থবছরের আইটেমভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদন চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) একাধিকবার চিঠি ও তাগিদ দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি।
এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে উৎপাদন প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর কয়েক দফা তাগিদ দেওয়া হলেও প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন জমা দেয়নি।  এলটিইউ কমিশনার সৈয়দ আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৮২ ধারা অনুযায়ী, এনবিআর যেকোনো করদাতার কাছ থেকে ব্যবসা ও উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য তলব করার ক্ষমতা রাখে।
এ বিষয়ে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তথ্য চাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নানা প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী এসব তথ্য সরবরাহ করা তাদের বাধ্যবাধকতা। স্বচ্ছভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে উৎপাদনের রেকর্ড দিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-এসিআই, এরিস্টোফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, এসেনসিয়াল ড্রাগস, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, নুভিস্তা ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সাইনোভিয়া ফার্মা, দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসসহ মোট ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকেও পৃথক ভাবে উৎপাদন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, আইটেমভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রির প্রকৃত হিসাব মিলিয়ে দেখা হবে। এতে উৎপাদিত ও বিক্রিত পণ্যের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থাকলে কর ফাঁকি বা অনানুষ্ঠানিক বাজারে পণ্য বিক্রির বিষয়টি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। 
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অডিট টিম পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানা থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে এনবিআর।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ