খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খুলনার ডিআইজি

বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক, পুলিশিং হবে গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১৬ এ.এম | ২৭ জুলাই ২০২৬


অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দল বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের নবনিযুক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই। কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। তাই পুলিশিংও হবে গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অপরাধ দমনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।  রোববার সকালে খুলনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অপরাধ দমনে ব্যক্তি, দল বা পরিচয়ের কোনো বিবেচনা করা হবে না। যে-ই অপরাধে জড়িত থাকুক, তাকে অপরাধী হিসেবে দেখা হবে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর তদন্ত এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের মাধ্যমে খুলনা রেঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শুধু ব্যবস্থা নেওয়া নয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রতিরোধমুলক পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মোবাইল প্রযুক্তি, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ তদন্ত ও দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দাভিত্তিক (ইন্টেলিজেন্স-বেইজড), প্রযুক্তিনির্ভর (টেক-বেইজড) ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এই চার ধরনের পুলিশিংয়ের সমন্বয়ে খুলনা রেঞ্জে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্তে আরও ইতিবাচক ফল মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমের ভ‚মিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমাজের প্রত্যাশা ও পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়নে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। পুলিশের ভুলত্র“টি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা এবং জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরলে তা পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই ডিআইজি বলেন, আইন যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা রেঞ্জের পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান ডিআইজি। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ও কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করা হবে।
এ ছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সঙ্গে সমন্বয় করে রেঞ্জের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিট পুলিশিং জোরদার এবং জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান তিনি।
অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, মাগুরার একটি এলাকায় মাদক ও সহিংসতা কমাতে পুলিশের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতা কমাতেও ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখতে পারে।
মতবিনিময় সভার শুরুতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে খুলনা রেঞ্জে ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ জেলায় ৩৫ হাজার গাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় খুলনার পুলিশ সুপার মোঃ তাজুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ