খুলনা | সোমবার | ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৭ দিনে ৪৬ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

সরকারি ছুটির ছাড়াও বৃক্ষমেলায় ছিলো দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভীড়

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:১৭ এ.এম | ২৭ জুলাই ২০২৬


খুলনা জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ আয়োজিত খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার আজ সতের দিন। গতকাল রোববার সরকারি ছুটির ছাড়াও মেলার স্টলগুলোতে ছিলো ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের চোখে পড়ার মত ভীড়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে যেন চলছে প্রতিযোগিতা। দিন যত বাড়ছে মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি যেমন বাড়ছে অন্যদিকে বাড়ছে বেচাকেনা।   
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে মেলার স্টলগুলোতে ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমিদের উপস্থিতি  যেন বাড়ছে। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এসে ভীড় জমাচ্ছে স্টলগুলোতে। গত ১১ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত মেলায় ফলজ, বনজ, ফুল, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী ৩১ হাজার ৯৮২টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ১৬ হাজার ৯০ টাকা। গত ২৫ জুলাই চারা বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ১০২টি। যার মূল্য চার লাখ ৮৬ হাজার ২৮০ টাকা।   
অন্যদিকে দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল মেলার স্টলগুলোতে। আবার কেউ কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন তাদের পছন্দের গাছের চারা কিনতে। 
মেলার প্রধান ফটকের বাম পাশে রয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখানে পাওয়া যাবে মেলা সংক্রান্ত ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বৃক্ষরোপণে  সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। গেল বছরের তুলনায় এবছর বেড়েছে দু’টি স্টল। 
প্রাপ্ত তথ্য মতে, রর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা মিলে গত ২ জুলাই পর্যন্ত এক কোটি ৭০ লাখের মত গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাস্তার দু’পাশে গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিল্পব শুরু করেছিলেন। তারই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিপ্লব শুরু করেছেন। 
এদিকে মেলায় প্রত্যেকটি স্টলে দেশি, বিদেশী বিভিন্ন জাতের ফলজ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী গাছের সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি এমনটাই মন্তব্য করছেন স্টল মালিকরা। মেলায় কেউ এসেছেন গাছের চারা কিনতে, কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে, কেউ এসেছেন সেল্ফী তুলতে। ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থী উভয় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
রূপসা উপজেলা নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপালী নার্সারির মোঃ আল-আমিন খান বলেন, দিনদিন মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, তার স্টলে বারি ফুট, রেট ক্রিস্টাড জাতের আমের চারা, ভিয়য়েতনামী জাতের মাল্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ গাছের চারা রয়েছে। 
নিজাম নার্সারির মোঃ নিজাম শেখ বলেন, বেচাকেনা দিন দিন বাড়ছে। কুসুম কানন নার্সারি জাকির হোসেন বলেন, দিন যত বাড়ছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। তিনি বলেন, মেলায় ফলজ গাছের চারা বেশি বিক্রি হয়েছে।  
মৌসুমী নার্সারির গাজী কামরুজ্জামান বলেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি যথেষ্ট। মেলায় সকল বয়সী মানুষ আসছে। কেউ আসছে চারা কিনতে, কেউ আসছে ছবি তুলতে। তিনি বলেন, ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অনেক অনেক বেশি।   
মেসার্স নাজিফা নার্সারি মোঃ সাকিবুল হাসানের সাথে। তিনি বলেন, বেচাকেনা বাড়ছে। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ সকল বয়সের মানুষ মেলায় আসছেন। তিনি বলেন, ইয়াডেনিয়াম, ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে।
অনি নার্সারির রফিকুল ইসলাম বলেন, আগের চেয়ে বেচাকেনা বাড়ছে। তিনি বলেন, ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি। তিনি বলেন, দিন যত বাড়ছে বেচাকেনাও বাড়ছে।  
মেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেনের দেয়া তথ্য মতে, গত ১১ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ১ দিনে ৩১ হাজার ৯৮২টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ৪৬ লাখ ১৬ হাজার ৯০ টাকা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ