খুলনা | মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ শুরু

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩১ পি.এম | ২৭ জুলাই ২০২৬


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় ৮০০ একর জমির এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে আনোয়ারায় প্রকল্পটির গ্রাউন্ডব্রেকিং ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত আছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপিত হয়। তবে ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় এক দশক ধরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আটকে ছিল।

গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর এর বাস্তবায়নে গতি আসে।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর সরকারি জমিতে সিইআইজেড প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া জেটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক, চার লেনের সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন লাইন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহকেন্দ্র এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, সিইআইজেড চালু হলে দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন আরও গতি পাবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, হালকা প্রকৌশল, রাসায়নিক ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠতে পারে।

কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং বন্দর ও বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে সিইআইজেড ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ