খুলনা | মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বটিয়াঘাটার রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:২৭ এ.এম | ২৮ জুলাই ২০২৬


বটিয়াঘাটা থানার ঝালবাড়ি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর উঠানোকে কেন্দ্র করে বিবাধের জেরে রেজাউল শেখকে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মোঃ খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেছেন। 
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বটিয়াঘাটা থানার ঝালবাড়ি গ্রামের মৃত কলম বক্সের ছেলে আব্দুস সালাম শেখ (৬৬) এবং সালাম শেখের দু’ছেলে মোঃ খুরশিদ আলম (৪৩), মোঃ খায়রুল শেখ (৩৬)। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাসপ্রাপ্ত আসিামি হলেন গোয়ালঘাটা গ্রামের কালা বাবুর ছেলে মোঃ এরশাদ হোসেন শেখ (৪০)।   
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ শাহ আলম নথীর বরাত দিয়ে জানান, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামে বাজারে নিজের দোকানের কাছাকাছি ঘোরাঘুরির সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তারা একাধিক আঘাত করতে থাকে। রেজাউলের ছোট ভাই ঠেকাতে এলে তাকেও তারা আঘাত করে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন সন্ধ্যায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-১৩)। মামলায় তিনি ঝালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কলমবক্সের ছেলে আঃ সালাম এবং সালাম শেখের দুই ছেলে মোঃ খুরশিদ আলম (৩৫) ও মোঃ খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার কালা বাবুর ছেলে এরশাদকে আসামি করেন। 
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পারিদর্শক মোঃ গোলাম রসুল উল্লিখিতদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 
চার্জশিটে তিনি উল্লেখ করেন পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর উঠানোকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে খুরশীদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাতা দিয়ে রেজাউলের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তাদের লাঠির আঘাতেই রেজাইল শেখের মৃত্যু হয়।   
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এড. এটিএম মনিরুজ্জামান ও এপিপি এড. খুরশিদা সুলতানা। 
এপিপি খুরশিদা সুলতানা জানান, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে রেজাউল শেখকে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদী। এ রায় অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্ত। এ রায় থেকে সকলের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।      

প্রিন্ট

আরও সংবাদ