খুলনা | মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারীর সমঅধিকার নিয়ে ফখরুল কন্যার বিস্ফোরক মন্তব্য

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৩ এ.এম | ২৮ জুলাই ২০২৬


একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন শিক্ষিকাকে কুরুচিপূর্ণভাবে অপদস্ত করার মহোৎসব, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার বলয়ে নারীদের নির্বাসন- সমাজের এই জঘন্য দ্বিচারিতা ও পুরুষতান্ত্রিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দেগেছেন ড. শামারুহ মির্জা। 
ফেসবুকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও বিশিষ্ট গবেষক ড. শামারুহ মির্জার বিস্ফোরক মন্তব্যে নেটপাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে সমাজ ও রাজনীতির অন্ধ ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতাকে কাঠগড়ায় তুলে একটি দীর্ঘ ও তীব্র আক্ষেপপূর্ণ পোস্ট দেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপদস্ত বনাম কমিটিতে নারীর অনুপস্থিতি এবং স¤প্রতি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পালকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় চরম বিতর্কের ঝড় ওঠে। ফেসবুকে তার একটি নিরীহ রিলস ভিডিওকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির নেটিজেনরা অশালীন ট্রোল ও হেনস্তায় মেতে ওঠে। এ ঘটনা নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই আগুনে ঘি ঢেলেছে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি। পূর্ণাঙ্গ ওই কমিটিতে একজন নারী সদস্যকেও স্থান না দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
সমাজ ও রাজনীতির এই দ্বিমুখী নীতির মুখোশ উন্মোচন করে শামারুহ মির্জা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন- ‘মাদ্রাসায় বাচ্চা পেটাবে, বাচ্চাকে সেক্সুয়ালি টর্চার করবে, এক শিক্ষিকা গান গাইলে ‘ব্যাটাদের দল’ ঝাঁপিয়ে পড়ে হ্যারাস করবে, এক মডেলকে ধরে নিয়ে ব্যবসায়ী পেটাবে...আর এই খবরের নিচে আবার ব্যাটাদের দল ঝাঁপিয়ে পড়ে বলবে ‘ঠিক হয়েছে’ বা আরও জঘন্য কথা বলবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও নীতি-নৈতিকতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন মির্জা-কন্যা। তার মতে, ‘সংগঠনের নীতিনির্ধারণী বা নেতৃত্বে নারীদের ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা রাখা হয় না; অথচ নির্বাচনের সময় ভোটব্যাংক হিসেবে সেই নারীদেরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ে।’
রাজনীতিতে নারীদের এই সস্তা ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভের সঙ্গে তিনি লেখেন- পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীদের মেধা ও যোগ্যতাকে অস্বীকার করে কেবল ভোটের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়।
ঠাকুরগাঁও ছাত্রদলের কমিটিতে নারীশূন্যতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শিক্ষিকাকে অপদস্ত করার ঘটনা দু’টি একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে শামারুহ মির্জার এই স্ট্যাটাস এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিবের কন্যার মুখ থেকে নিজ দলের অঙ্গসংগঠনের এমন বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি মন্তব্য আসা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ