খুলনা | মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়লো ক্যান্সার প্রতিরোধক করোসল গাছ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:১২ এ.এম | ২৮ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় ক্রেতা, দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক করোস গাছ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফল ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এ ফল খেলে ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। মেলায় অনি নার্সারী নামক স্টলে সাজিয়ে রাখা এ গাছ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। গাছের গুণাগুণ থাকায় ক্রেতারা একটু বেশি ঝুঁকে পড়েছে। স্টলের মালিক জমির উদ্দিন এ গাছটির মূল্য হাকিয়েছেন চার হাজার টাকা। 
সরেজমিনে জানা গেছে, করোসল গাছ মূলত উষ্ণমন্ডলীয় আমেরিকা অঞ্চলের উদ্ভিদ। পরবর্তীতে এটি আফ্রিকা, এশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলক ও সৌখিন চাষ শুরু হয়েছে। এছাড়া চায়না, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, ব্রাজিল এইসব দেশেও করোসল ফল জন্মায়। বাংলাদেশে এ ফলের চাষ শুরু হয়ে গেছে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে পরিচিত করোসল ফলের গাছ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। এটি এক ধরনের যৌগিক ফল। এ ফল গাছের পাতা প্রশস্ত। এটি সপুষ্পক উদ্ভিদ বা চিরসবুজ গাছ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফল ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। এই ফল খেলে ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এ ফল ক্যান্সার সেলের মৃত্যু ঘটাতে কেমোথেরাপির চেয়ে এটি দশ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। করোসল গাছে রয়েছে অ্যানোনাসিয়াস অ্যাস্টোজেনিন নামে এক ধরণের যৌগ। এই যৌগ ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়, যা কেমোথেরাপি করে। ফলে ক্যান্সার কোষ আর বাড়তে পারে না। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, প্রসটেট ক্যান্সারে এটি বেশি কার্যকর। এছাড়া নিয়মিত এই ফল খেতে পারলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায়। শরীরও চাঙ্গা থাকে এবং দুর্বল ভাব আসে না। রক্তকে শোধিত করতে এ ফলের গুণ অনস্বীকার্য। শুধু ফলই নয়, এই গাছের ছাল ও পাতায় লিভার সমস্যা, আথ্ররাইটিস ও প্রস্টেটের সমস্যাও নিরাময় হয়ে যায়। করোসল ফলের জন্যে ৫-৬ মাত্রার মাটি সবচেয়ে উপযোগি। মাটিতে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো থাকতে হবে। বেলে মাটি এ ফলের জন্যে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। করোসল (Corossol) মাঝ বরাবর কেটে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। একটি ফলে মোটামুটি ১২-২০টি বীজ থাকে। এরপর ঘরের অভ্যন্তরে ছায়াযুক্ত স্থান নির্বাচন করে অঙ্কুরোদগম হওয়ার জন্যে সুযোগ দেওয়া হয়। কুসুম গরম পানিতে বীজকে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরদিন একটি টেুতে কোকোডাস্ট, ভার্মিকুলাইট মিশিয়ে পিট তৈরি করে বীজ বপন করতে হয়। ২-৪ সপ্তাহ পর বীজের ট্রেটিকে আলোর সংস্পর্শে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিন ৪-৬ ঘন্টা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে রাখা বাঞ্ছনীয়। করোসলের বীজ ১৫-৩০ দিনের মধ্যেই অঙ্কুরিত চারা টবে রোপণের উপযুক্ত হয়ে যায়।
অঙ্কুরিত বীজটিকে এবার টব বা প্লাস্টিকের পাত্রে স্থানান্তরিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে পাত্রটি যেন গাছের চেয়ে বড় হয়। পাত্রের নিচে ছিদ্র থাকতে হবে। মোটামুটি এক মাসে মধ্যেই চারাগাছ টবে লাগানোর উপযুক্ত হয়ে যায়। ফাল্গুন মাসের শুরুতে করোসলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। বীজ লাগানোর পূর্বে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে র‌্যাকার চালাতে হবে, দুই ইঞ্চি পুরু করে কম্পোস্ট সার দিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। ১২ ইঞ্চি চারাটি রোপণের ক্ষেত্রে একটি গাছ থেকে অপর গাছেত দূরত্ব হতে হবে ১২ ইঞ্চি। নইলে গাছ উপযুক্ত পুষ্টির অভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। গর্ত বড় করে করতে হবে যেন মূল গভীর পর্যন্ত যেতে পারে। মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়ার পর ৩ ইঞ্চি পুরু করে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে আর্দ্রতা ধরে রাখতে। এটি ফুল ধরা শুরু করলে প্রতিবছর ফল দিতে থাকবে। 
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গত ২৬ জুলাই দুই হাজার ৭৬৫টি চারা বিক্রি হয়েছে যার মূল্য তিন লাখ ৯২ হাজার ৯৪০ টাকা। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ