খুলনা | বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, সারজিস ও নাসীরুদ্দীন আহত

খবর প্রতিবেদন |
১১:১৯ পি.এম | ২৮ জুলাই ২০২৬


হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা  শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদরে কোর্ট মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে জেলার আজমিরীগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৬টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়।
রাত ৮টার দিকে পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। এ সময় সার্কিট হাউস লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
সার্কিট হাউসে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে যেতেও বাধা দিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী বাহিনী লালন করতে চান কি না। এরা তো তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, শান্তিপ্রিয় হবিগঞ্জে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির দায় ছাত্রদল নেবে না। এনসিপিনেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাব দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এদিকে ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জে একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ