খুলনা | বুধবার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃক্ষমেলায় ১৮ দিনে ৫৪ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার্য শ্বেত চন্দন গাছ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৪৭ এ.এম | ২৯ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার্য শে^ত চন্দন গাছ। ত্বকের যতেœ, মানসিক চাপ কমাতে এবং সুগন্ধি তৈরিতে শ্বেত চন্দনের জুড়ি নেই। শ্বেত চন্দন হচ্ছে সান্টালাসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। অনি নার্সারী নামক স্টলে টবে পরিপটি করে রাখা হয়েছে মূল্যবান এ গাছের চারাটি। যার দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ হাজার টাকা। 
সরেজমিন ঘুরে ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শ্বেত চন্দন গাছ (বৈজ্ঞানিক নাম : Santalum album) একটি প্রাচীন ও অত্যন্ত মূল্যবান সুগন্ধযুক্ত চিরহরিৎ উদ্ভিদ। প্রায় চার হাজার বছর ধরে সংস্কৃত, চীনা ও মিশরিয় সভ্যতায় ধর্মীয় আচার, আয়ূর্বেদ চিকিৎসা এবং সুগন্ধি তৈরিতে এই গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। অতিরিক্ত কাটাকাটির কারণে বর্তমানে এটি বন্য পরিবেশে বিপন্ন প্রায়। দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এর আদি বাসস্থান হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন মসলা বা বাণিজ্যের মাধ্যমে এটি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্বেত চন্দন হচ্ছে সান্টালাসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। ত্বকের যতেœ, মানসিক চাপ কমাতে এবং সুগন্ধি তৈরিতে শ্বেত চন্দনের জুড়ি নেই। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান ব্রণ ও ত্বকের ইনফ্লেমেশন কমায়, রোদে পোড়াভাব দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। 
এছাড়া অ্যারোমাথেরাপিতে এর সুবাস মানসিক শান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে। সাবান, ক্রিম, পাউডার, আতর ও ধূপ তৈরিতে চন্দন কাঠ ও এর নির্যাস ব্যবহার করা হয়। পূজা-পার্বণ ও শুভ কাজে চন্দনের পেস্ট বা ফোঁটা কপালে ব্যবহার করা হয় এবং এর কাঠ পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানে পোড়ানো হয়। আয়ুর্বেদ ও ভেষজ চিকিৎসায় ত্বকের যতœ, মাথা ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে চন্দনের ব্যবহার রয়েছে। এর সুগন্ধযুক্ত ও ঘন কাঠ দিয়ে চমৎকার শোপিস, বাক্স এবং দামি আসবাব তৈরি করা হয়। শ্বেত চন্দন আমাদের কাছে সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত হলেও চন্দন কাঠের নির্যাস সাবান, পাউডার, আতর, ক্রিম, দাত মাজার পেষ্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
গতকাল বিকেলে বৃক্ষমেলায় কথা হয় নগরীর বয়রা এলাকার জাহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি মেলায় এসেছেন একটি বনজ গাছ কিনতে। তিনি বলেন, একটি শ্বেত গাছের দাম বেশি হওয়ায় তিনি একটি চেরি ফল গাছ কিনেছেন। 
অনি নার্সারী স্টলের স্বত্বাধিকারী মোঃ জমির উদ্দিন বলেন,  শে^ত চন্দন একটি দামি গাছ। বিভিন্ন কাছে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, শে^ত চন্দন গাছটির দাম ১২ হাজার টাকা।        
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গত ২৭ জুলাই দুই হাজার ৮২৩টি চারা বিক্রি হয়েছে যার মূল্য ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫৯০ টাকা। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৭০টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য দাঁড়িযেছে ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৬২০ টাকা।   

প্রিন্ট

আরও সংবাদ