খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি ইউরোপের দলগুলোর, নেপথ্যে কী কারণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:১৬ পি.এম | ২৯ জুলাই ২০২৬

 

বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাইরের বিনিয়োগকারী যুক্ত করার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ফিফার সঙ্গে নতুন সংঘাতে জড়িয়েছে উয়েফা। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ থেকে সরে না এলে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ৫৫ সদস্য দেশ।

উয়েফা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্সসহ তাদের ৫৫ সদস্য দেশের সঙ্গে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। বৈঠকে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সম্ভাব্য করণীয় নিয়েও আলোচনা হবে। প্রতিবেদনে ইএসপিএন জানিয়েছে, সেই বৈঠকে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও থাকতে পারে।

ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে ফিফা। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি। এই প্রতিষ্ঠান পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এই উদ্যোগে সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারী যুক্ত করতে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জে.পি. মরগানের সঙ্গে কাজ করছে ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জশুয়া কুশনার প্রতিষ্ঠিত থ্রাইভ ইটারনাল। জশুয়ার ভাই জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন ডলার ইকুইটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চলতি বছরের শেষ দিকে এফএফইর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলা হবে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, ফুটবলের পরিচালনা, প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক ম্যাচসূচি এবং সব ধরনের নিয়ন্ত্রক ও ক্রীড়াবিষয়ক সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে।

ফিফার এক বিবৃতিতে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গণতন্ত্রীকরণের উদ্যোগ।’

ফিফার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় উয়েফা। সংস্থাটির দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। উয়েফা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, তাদেরও একই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা উচিত।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফুটবলের আত্মা এবং এর পরিচালনা ব্যবস্থা কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়—বিশেষ করে যখন কারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমাদের কেউই ফুটবলের মালিক নই। আর ফুটবল বিক্রি করার অধিকারও ফিফার নেই।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ