খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩০ মাঘ ১৪৩২

বাজার তদারকি জোরদার করা হোক

|
১১:৩৭ পি.এম | ০৮ জুন ২০২১

বাজারে যথেষ্ট মজুত থাকার পরও সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। শুধু পেঁয়াজ নয়, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, রসুন ও ডালের দামও বাড়তির দিকে। 
বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের দাবি, কয়েক মাস ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ আছে। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের মেয়াদ ১৪ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। 
অন্যদিকে ঢাকার বাজারে চিকন, মাঝারি ও মোটাসহ সব ধরনের চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আরও ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন চালের দাম কিছুটা কমলেও পুরনো চালের দাম বেশি। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম কমছে না। আটা ও ময়দার দামও গড়ে কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে।
টিসিবির শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কেজিতে সরু চালের দাম ১ দশমিক ৬৭, মাঝারি আকারের চাল ১১ দশমিক ৫৮ ও মোটা চালের ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেজি খোলা আটার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ৩৮ দশমিক ৮৯, বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৩৪ দশমিক ৮৮ এবং খোলা পাম অয়েলের দাম ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
এক বছরে কোনো পণ্যের দাম ২-৩ শতাংশ বাড়লে তা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এক বা তিন সপ্তাহের মধ্যে ২০-২৫ শতাংশ দাম বাড়লে তাকে কোনোভাবে স্বাভাবিক বলা যায় না। এই অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি যারা তৈরি করছে, তারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছাচারী কায়দায় দাম বাড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের মতো আমদানি পণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়লেও দেখার কেউ নেই।
এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়লে দেশীয় বাজারে ৫ টাকা বাড়িয়ে দেন। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করেই কাজটি করেন। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য বাজার তদারক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বাজারের সরবরাহ ঠিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ