খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া উৎসব যেন শেষ কথা না হয়

|
১২:১৯ এ.এম | ৩০ জুলাই ২০২৬


শিশু-কিশোরেরা পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে ও ডিজিটাল স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, শিশু-কিশোরদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে এ রকম নেতিবাচক খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে। এর সবই অনেক বড় উদ্বেগের বিষয় হলেও এ থেকে উত্তরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি; বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনেক কথা বলা হলেও শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য সহায়ক হতে পারে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেখা যায়নি; বরং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত না করে শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাণহীন বইয়ের বোঝা, খেলাধুলার মাঠ কেড়ে নিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ।
এ রকম প্রেক্ষাপটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো উদ্যোগ অনেক বড় আশাবাদের জায়গা তৈরি করে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে তৃণমূল পর্যায়ের ১২-১৪ বছর বয়সীদের নিয়ে গত ২ মে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। এতে দেশের সব উপজেলার ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, এ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট-এই আটটি ডিসিপ্লিনে ছেলেদের পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার মেয়ে প্রতিযোগীও অংশ নেয়। বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে জাতীয় পর্যায়ের একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এত বিপুলসংখ্যক মেয়ের অংশগ্রহণ বড় অর্জন বলেই আমরা মনে করি।
সরকার বলছে, দেশজুড়ে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ এবং খেলাধুলাকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন কুঁড়ির এই আয়োজন। এত বিশালসংখ্যক খুদে খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে এ রকম একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা মনে করি, শিশু-কিশোরদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হওয়ায় এটি প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি উৎসবের রূপ পেয়েছিল।
এর আগেও আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও আগ্রহ দেখেছি। এ উদাহরণ থেকে এটা বলা যায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে শিশুদের খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারল সেটা অবশ্যই একটা কৃতিত্বের বিষয়, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সারা দেশের শিশু-কিশোরদের বড় একটি অংশের মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা গেছে।
গত সোমবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্যে বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও সেটা বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বর্তমান সরকারের আমলে এটি প্রথম আয়োজন। আমরা আশা করি, এবারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আগামীবার আরও সুসংগঠিতভাবে এটি আয়োজন করা হবে।
আমরা মনে করি, এ ধরণের প্রতিযোগিতা আয়োজন করাটাই শেষ কথা নয়, সবার আগে প্রয়োজন শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরি করা। প্রতিযোগিতায় যেসব ক্রীড়া প্রতিভা বের হচ্ছে, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, বৃত্তিসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা করে যেতে হবে। একটি ক্রীড়া সহায়ক পরিবেশ ও অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ