খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুকুরের কামড়ে আহত ১১, চোখ উপড়ে গেল শিশুর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫০ এ.এম | ৩০ জুলাই ২০২৬


পাবনায় একদল বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর এবং এক শিশুর চোখ উপড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শহরের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কুকুর পথচারীদের এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। বুধবার সকাল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। আহতদের তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং র‌্যাবিস টিকা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুকুরে কামড়ানো ১১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিরা এখনো চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ রফিকুল হাসান।
জুঁই আক্তার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একদল কুকুরের আক্রমণে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে অন্তত ১৫-২০ জনকে কামড়েছে। এক শিশুর চোখ উপড়ে ফেলেছে। কয়েকবার জানানোর পরেও পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আজ সকালেও কুকুরগুলোকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে এবং দু-একজনকে কামড়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় কুকুরের কামড় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কাদের কাজ-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তামারা তাসবিহা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। পৌরসভা ও প্রাণীসম্পদ বিভাগকে বলছি। আমরা একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ