খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিএনপি নেতা রিয়াজ সাহেদকে হত্যা প্রচেষ্টা মামলা : সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৮ এ.এম | ৩০ জুলাই ২০২৬


নগরীর খালিশপুরের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রিয়াজ সাহেদকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যাপ্রচেষ্টা মামলায় পিবিআই’র দাখিলকৃত বিতর্কিত চার্জশিটের বিরুদ্ধে আনা নারাজি পিটিশন মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সাথে পিবিআই’র দাখিলকৃত অভিযোগপত্র নাখোশ করে ঘটনাটির অধিকতর ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
গতকাল বুধবার মামলার ধার্য দিনে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ আসাদুর জামান ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার নারাজি পিটিশন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর (২০২৬) নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্তে¡ও মূল আসামিদের বাদ দিয়ে পিবিআই-এর দাখিলকৃত চার্জশিট নিয়ে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকায় প্রভাবিত হয়ে অভিযুক্ত মূল আসামি সুলতান মাহমুদ পিন্টুসহ একাধিক প্রভাবশালীকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতির সুপারিশের অভিযোগ ওঠে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া বিএনপি নেতা রিয়াজ সাহেদ জানান, তদন্ত কর্মকর্তা আসামি সুলতান মাহমুদ পিন্টুর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ও তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পিন্টুসহ মূল অপরাধীদের মামলা থেকে বাদ দিয়েছেন। 
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিএল কলেজ রোডে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন রিয়াজ সাহেদ। ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁর কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন। তবে বর্তমানে বাদীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
পিবিআই তাদের দাখিল করা বিতর্কিত চার্জশিটে দণ্ডবিধির ৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় মাত্র ৫ জনের (আরমান হোসেন মোল্লা ওরফে দিপু, হুমায়ুন কবির ওরফে হুমা, মোঃ নাছিমুল গনি ওরফে নাছিম, মোঃ আলি মোল্লা ওরফে রায়হান এবং জাকারিয়া মিন্টু) বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং পলাতক ২ নম্বর আসামি আজম তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করে।
অন্যদিকে, হত্যাচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত ও সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মূল আসামি সুলতান মাহমুদ পিন্টু, মোঃ ফয়সাল আহমেদ দ্বীপ, সুজন মল্লিক এবং এস এম তাজিবীর আলম ওরফে তমালকে ‘দায়মুক্তি’ দেওয়া হয়েছিল, যা পুলিশের তদন্তের স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
আজ আদালতের এই পুনঃতদন্তের আদেশে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সকলে আশা প্রকাশ করছেন, সিআইডি’র মাধ্যমে এবার মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে

প্রিন্ট

আরও সংবাদ