খুলনা | শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারকে কঠোরভাবে মব সহিংসতা রুখতে হবে

|
১২:৫৫ এ.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় শিক্ষার্থী পেটানো এবং হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা শুধু উদ্বেগজনক নয়, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) একজন নেতার নেতৃত্বে আবারও মব সহিংসতার যে নজির স্থাপন হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে যেভাবে ব্যর্থ হলো, তাতে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে বিশ্ববিদ্যালয়টি কি ‘মবের মুল­ুকে’ পরিণত হয়েছে? একইভাবে হবিগঞ্জে বিরোধী দলের ওপর হামলা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার জবরদস্তির পুরোনো চর্চাকেই আবারও সামনে নিয়ে এল।
খবর থেকে জানা যাচ্ছে, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি না করে সালিস বৈঠক বসানোর কারণেই সোমবারের দুঃখজনক ঘটানো ঘটতে পেরেছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা যেভাবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন, সেটা এককথায় ফৌজদারি অপরাধ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, প্রথম দফায় মারধর করা হয়েছে প্রক্টরের দপ্তরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। গ্রন্থাগারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ হামলার শিকার হয়েছেন। এ রকম বেপরোয়া হামলার ঘটনা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের আমলে আমরা দেখেছি।
একজন শিক্ষার্থীর মুঠোফোন ঘেঁটে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখে তাঁকে ‘ছাত্রলীগ তকমা’ দিয়ে আক্রমণ করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিক্ষার্থীর মুঠোফোন তল­াশি করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন। মারধরের শিকার দু’জন শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ঘটনাও নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত বলে আমরা মনে করি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে মব সহিংসতার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। আগের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মব সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হতো না।
হবিগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ শেষে দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলা রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত উদাহরণ। মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি সমাবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। এমন দাবি হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যেকোনো বক্তব্যের জবাব বক্তব্য দিয়েই দিতে হবে, গায়ের জোর দিয়ে নয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলে আমরা দেখেছি, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা হতো, এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। ফলে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র কাছে একই আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকাও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর যারা হামলা করেছে, বিএনপি ও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু হলেও ভেঙে পড়া অর্থনীতি বিনির্মাণে সবচেয়ে বেশি দরকার স্থিতিশীলতা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মব সহিংসতা ও হবিগঞ্জের বিরোধীদের হামলার মতো ঘটনা সেই স্থিতিশীলতাকেই বিনষ্ট করতে পারে। সরকারকে অবশ্যই কঠোরভাবে এমন সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ