খুলনা | শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি’

‘৪-৫ মাসে কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে’

খবর প্রতিবেদন |
০২:১১ এ.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


এই চার পাঁচমাসে কিছুই বদলায়নি, একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, চার পাঁচ মাসে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে। ভালো পরিকল্পনা আগের মতোই আটকে দিচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারলেই কেবল জুলাই সফল হবে। যে যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা আশা করি, তরুণদের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে। যারা ভোল পাল্টিয়েছে, তারা এখন বেশি অপকর্মে লিপ্ত।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষমুায় গেলেই ক্ষমুাসীনদের মধ্যে একটি রসায়ন কাজ করে ক্ষমুাকে আঁকড়ে ধরার। এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য জুলাই আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে তরুণরা। জুলাইয়ের ত্যাগ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে এণ রক্ত বৃথা যাবে। বিএনপি এই সমাজটাকে পাল্টে দিতে চায়।
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো ভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ করে আসে না। নিয়মুান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বড় পরিবর্তন অর্জিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনে মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি অর্জিত হয়নি উলে­খ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ একই সময়ে যাত্রা শুরু করে অনেক দ‚র এগিয়ে গেছে। জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের শুরুতে তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন ছিল। পরবর্তীতে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের ত্যাগ ও বেদনা জাতিকে সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য ধারণ করতে না পারলে সেই ত্যাগ অর্থহীন হয়ে যাবে।
দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহŸান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মূল্যবোধ, শিক্ষা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কাক্সিক্ষত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের মৃত্যুজনিত শোক বহন করতে না হয়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না; পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেদের মধ্য থেকেই। দেশের মানুষ পরিশ্রমী ও ত্যাগী। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উলে­খ করে তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সবসময় প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ার আহŸান জানিয়েছেন। আগস্টের ঘটনা প্রবাহের পর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধ নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ ত্যাগ যেমন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, তেমনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ