খুলনা | শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

আমিই আবু সাঈদের হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করি : আদালতে কলিমউল্লাহ

খবর প্রতিবেদন |
০২:২০ এ.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ আমিই করেছি। আমিই প্রতিবাদ জানিয়েছি সবার আগে। এটা রেকর্ড আছে। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও বিপক্ষে কাজ করিনি। আমি আন্দোলন সমর্থন করেছি বলে আদালতের কাছে দাবি করেছেন বেরোবির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামের ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানো সংক্রান্ত শুনানির জন্য কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে তিনি এসব দাবি করেন।
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসাইনের আদালত বেরোবির সাবেক উপাচার্যকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। দুপুরে আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে এজলাসে ওঠানো হয়, এরপর আদালতের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই আসামি কলিমউল্লাহকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একই আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতে মোঃ আবু সাইদ বলেন, এ মামলায় কলিমুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তিনি এ মামলায় নাজমুল তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রার্থনা করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক অধ্যাপক। এ সময় কলিমুল্লাহ কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রতিবাদ করে বলেন, সাবেক না, সাবেক না। আমি এখানো অধ্যাপক।
আইনজীবী আরও বলেন, কলিমুল্লাহ একটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর অন্যতম কারিগর এ কুশীলব বুদ্ধিজীবী। উনি দিনের ভোট, রাতে করানোর  বৈধতা দিয়েছেন। আজকের এ আসামি শেখ হাসিনার একজন সুবিধা ভোগী। এ রকম কলঙ্কজনক শিক্ষকের জন্য আমার নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে।
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মিছিলে গুলি করা ও তাদের লাশ গুম করার কার্যক্রমেও জড়িত এই কলিমুল্লাহ। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় এলাকায় এ মামলার ভিকটিম গুলিবিদ্ধ হন। মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানিয়েছেন। আমি এই আবেদনে সমর্থন জানাচ্ছি।
এর বিরোধিতা করে আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশীদ বলেন, উনি একজন অধ্যাপক। তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা আছে। তার কাজ শিক্ষকতা করা। তার কাজ গুলি চালানো নয়। এ মামলায় ৯০ জন আসামি আছে। কিন্তু তার নাম ৬১-৬২ তে। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মামলায় কারাগারে আছে। সেগুলোতেও এখন জামিনে রয়েছে। হঠাৎ এতদিন পর কেন তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলো আমার বুঝে আসে না।
আব্দুর রশীদ আরও বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিনের ৩০ ঘণ্টা পর আবারও তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন আসছে। কবেকার সেই নির্বাচনকালীন দায়িত্বের কথা এতদিন পর টেনে আনা যুক্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার এক বছর পরে শোন এ্যারেস্ট দেখাতে পারে না আদালত। এটা দুই বছর আগের মামলা। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আমরা এর বিরোধিতা জানাচ্ছি।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কলিমউল্লাহ আদালতে কাছে কথা বলার অনুমতি চান পরে আদালত তাকে এক মিনিটের জন্য কথা বলার অনুমতি দেন।
কলিমউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে আমি যা দেখেছি তাই বলেছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই। সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমার দায়িত্ব ছিল। এর আগে পরে কিছু হয়েছে কিনা সেটা তো আমার জানার কথা না। এরপর বিচারক বলেন, এটা তো আপনার দায়িত্ব। আগে পরের ঘটনা আপনার জানার কথা।
কলিমউল্লাহ আরও বলেন, আমিই আবু সাঈদের হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করেছি। আমিই প্রতিবাদ জানিয়েছি সবার আগে। এটার রেকর্ড আছে। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও বিপক্ষে কাজ করিনি। আমি আন্দোলনকে সমর্থন করেছি।
তখন বিচারক বলেন, আপনার নির্বাচনী আর্টিকেল আমিও পড়েছি। তদন্তের স্বার্থে আপনাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। আপনি এ মামলায় কারাগারে যাবেন।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বেরোবির উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক এই ভিসির বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় ওইদিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ