খুলনা | শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতীয় দু’টি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে কেসিসি’র বক্তব্য

‘জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই ‘মেথড’ বা ডিপিএম পদ্ধতিতে অতি জরুরি বিবেচনায় মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়’

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৪৩ এ.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


কেসিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সড়ক উন্নয়ন কাজের বিষয়ে জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সমকাল ও দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে কেসিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। গত ২৮ জুলাই ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘‘জরুরি ঠিকাদারী কাজ পান শুধু প্রশাসকের অনুসারীরা’’ শিরোনামে এবং গত ২৯ জুলাই ‘দৈনিক মানবজমিন’ পত্রিকার শেষ পাতায় ‘‘খুলনায় টেন্ডার ছাড়া কেসিসি’র শতাধিক কাজ ভাগ বাটোয়ারা’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হওয়ায় কেসিসি কর্তৃক তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।  
প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই কাজ দেয়া হয়েছে। মানা হয়নি ক্রয় বিধিমালা। কোটেশন আহŸানের বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইটে ও নোটিশ বোর্ডে দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। 
প্রকাশিত সংবাদে ‘কোটেশনে’ কাজ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া। বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত একটি কাজও কোটেশনের মাধ্যমে দেয়া হয়নি। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫, তপশিল-২ এর ৯৯ (১) (ড) ধারায় সরাসরি চুক্তির আওতায় উন্নয়ন বাজেটে অধিদপ্তর বা সংস্থার সদর দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক ৫ লাখ টাকা; তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবের অনুমোদনক্রমে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে মর্মে উল্লেখ আছে। পিপিআর-এর উল্লেখিত বিধি সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অতি জরুরি বিবেচনায় কিছু কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ডিপিএম পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট ও নোটিশ দেয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। 
সংবাদের উল্লেখিত অংশের প্রতিবাদে কেসিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, বিগত সরকারের শাসনামলে মহানগরীতে নির্দিষ্ট প্রকল্পভুক্ত বড় বড় সড়ক ও ড্রেনের উন্নয়নের কাজ করা হলেও ছোট ছোট গলির কোন উন্নয়ন করা হয়নি। তাছাড়া খুলনা ওয়াসা কর্তৃক স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য নগরীর অধিকাংশ গলি খোড়াখুড়ির কারণে ছোট ছোট সড়কগুলি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন খুলনা সিটি কর্পোরেশন জনপ্রতিনিধি শূন্য থাকায় নগরবাসী তাদের চলাচলের গুরুতর সমস্যাগুলির সমাধান যথাসময়ে পায়নি। 
চলতি বছরের মার্চ মাসে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসী তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং তাদের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে লিখিত আবেদন জানাতে থাকেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কম প্রশস্তের চলাচলের অনুপযোগী গলিসমূহ আর্থিক সামর্থের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ বা ডিপিএম পদ্ধতিতে অতি জরুরি বিবেচনায় মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়।
উল্লিখিত বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ডিপিএম পদ্ধতিতে কাজগুলি কেসিসির তালিকাভুক্ত ঠিকাদার দ্বারা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কাজের গুণগত মানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। আরও উল্লেখ্য যে, ডিপিএম পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত কাজের নোটিশ ওয়েবসাইট অথবা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শনের কোন বাধ্যবাধকতা নাই। সুতরাং, জাতীয় দু’টি দৈনিক পত্রিকায় কেসিসি কর্তৃক জরুরিভাবে বাস্তবায়নাধীন কাজের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে অসত্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা কেসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ