খুলনা | শুক্রবার | ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৯ দিনে ৬১ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

বৃক্ষমেলায় বাড়ছে দর্শনার্থী, নজর কাড়লো লাকি বাম্বু গাছ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:৪৪ এ.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় ক্রেতা, দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নজর কাড়লো লাকি বাম্বু গাছ। এটি Asparagaceae পরিবারের সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি প্রজাতি। উদ্ভিদটির মূল উৎস মধ্য আফ্রিকা। এ উদ্ভিদ মেলার বন কন্যা নার্সারী নামক স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন অফিস আদালতে, শো-রুমে সাধারণ সাজিয়ে রাখা হয়। আড়াইশ’ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত এ বাঁশের দাম চাওয়া হয়েছে। মাসব্যাপী এ বৃক্ষমেলায় এ পর্যন্ত ১৯ দিনে ৬১ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হয়েছে।  
সরেজমিন ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, লাকি বাম্বু কোনো আসল বাঁশ নয়। এটি মধ্য আফ্রিকার একটি ড্রাকেনা প্রজাতি (Dracaena sanderiana)। যার নামকরণ করা হয়েছে জার্মান-ইংলিশ উদ্যানতত্ত¡বিদ হেনরি ফ্রেডরিক কনরাড স্যান্ডারের নামানুসারে। প্রাচীন এশীয় সংস্কৃতি ও ফেং শুই-তে এর আকৃতি বাঁশের মত হওয়ায় এটি সৌভাগ্য, শক্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বিখ্যাত উদ্যানতত্ত¡বিদ হেনরি স্যান্ডারের নামানুসারে এর বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়। প্রাচীন এশিয়ার মানুষ এর শক্ত কান্ড দেখে একে আসল বাঁশ ভেবে ভুল করেছিলেন। এ উদ্ভিদ বিভিন্ন ঘরে বা অফিসে ইতিবাচক শক্তি ও সৌভাগ্য আনতে এটি জনপ্রিয় ইনডোর প্লান্টে পরিণত হয়। লাকি ব্যাম্বু ইন্ডোর গাছ। লাকি ব্যাম্বু একটি জনপ্রিয় ইনডোর গাছ, যা সৌভাগ্য, শান্তি ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এর কান্ড সাধারণত সরল, মোচড়ানো। ভাগ্যবান বাঁশ বা ‘লাকি ব্যাম্বু  Asparagaceae পরিবারের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজাতি। হেনরি ফ্রেডরিক কনরাড স্যান্ডার নামের এক জার্মান-ইংরেজ মালির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় ‘ড্রাকেনা স্যান্ডেরিয়ানা’। 
লাকি ব্যাম্বু আসলে কোনো বাঁশ নয়। এটি পশ্চিম আফ্রিকার একটি ক্রান্তীয় বহুবর্ষজীবী গুল্ম ও অ্যাসপারাগাস পরিবার (Asparagaceae)-এর সদস্য। এ প্রজাতির নামটি ইংল্যান্ডের সেন্ট অ্যালবানসের বাসিন্দা, জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী নার্সারি মালিক ও অর্কিড বিশেষজ্ঞ হেনরি ফ্রেডরিক কনরাড স্যান্ডারের স্মরণে রাখা হয়েছে। ফেংশুই মতে ঘরে লাকি বাম্বু রাখলে সুখ-সমৃদ্ধি, ইতিবাচক শক্তি ও সৌভাগ্য আসে। এটি ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মানসিক শান্তি ও সজীব পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে। একটি লাকি ব্যাম্বু গাছের জন্য প্রতিদিন ৪-৬ ঘণ্টা মাঝারি বা উজ্জ্বল, পরোক্ষ সূর্যালোক প্রয়োজন। কম আলোতে গাছটি লাগানো উচিত নয়। এর একটি ভালো বিকল্প হলো প্রতিদিন ৬-১২ ঘন্টা কৃত্রিম গ্রো লাইটের ব্যবহার। এদিকে মেলায় আগত বৃক্ষপ্রেমি, ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা লাকি বাম্বু গাছ দেখার জন্য স্টলে এসে ভীড় জমিয়ে থাকে।    
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মেলা ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 
বন কন্যা নার্সারী স্টল মালিক মোঃ সোহাগ শেখ বলেন, লাকি বাম্বু সাধারণত দোকানপাট, বাড়িতে কিম্বা অফিস আদালতে শোভা বর্ধন হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ২৯ জুলাই বুধবার গর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৯৭টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ৬১ লাখ ২৩ হাজার ৯৫০ টাকা। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ