খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

নির্মাণের এক দশক পার হলেও চালু হয়নি শার্শার সাড়ে ৪ কোটি টাকার ১০ শয্যা হাসপাতাল

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি |
১১:৪৬ পি.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


নির্মাণের এক দশক পার হলেও চালু হয়নি যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শার গোড়পাড়া বাজারের ১০ শয্যা বিশিষ্ট ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’। প্রশাসনিক জটিলতা, জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি এখন শুধুই স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো ও আসবাবপত্র অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার অন্তত ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নিজামপুর, ডিহি, লক্ষণপুরসহ আশপাশের প্রান্তিক এলাকার মা ও শিশুদের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ২০১৩ সালে গোড়পাড়া বাজারে এ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করে। কিন্তু হস্তান্তরের পর ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত শুরু হয়নি কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। জানালার ক৭াচ ভেঙে পড়েছে, দরজায় ধরেছে মরচে, আর দেয়ালের রঙ ধুয়ে-মুছে গেছে। ভবনটি চালুর সময় আনা গুটিকয়েক চেয়ার, টেবিল ও রোগীদের বেডগুলো অযতœ-অবহেলায় ধুলি মলিন হয়ে এখন ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ার পথে। স্থানীয়দের ক্ষোভ দিনের আলোয় চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর রাতের আঁধারে এটি পরিণত হয় মাদকসেবীদের আখড়ায়।
জরুরি চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তির কথা জানান এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানান আশপাশে কোনো হাসপাতাল না থাকায় সামান্য অসুস্থতায় রোগীদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের নাভারন বা যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। যাতায়াতে কালক্ষেপণ হওয়ায় অনেক সময় পথেই প্রাণ হারান মুমূর্ষু রোগী। হাতের কাছে হাসপাতাল ভবন দৃশ্যমান থাকলেও স্বজনদের দূর-দূরান্তে ছুটতে হওয়াকে চরম দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তারা। অবিলম্বে এটি চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ভবনের অবকাঠামো ও সামান্য আসবাবপত্র হস্তান্তর করা হলেও চিকিৎসার জন্য আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পদ অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণেই সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক টানাড়াপোড়েন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান জানান গোড়পাড়া ও শার্শার প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি দ্রুততম সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। সীমান্তবর্তী এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দিয়ে হাসপাতালটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন শার্শাবাসী।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ