খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশীয় মাছের প্রজনন হুমকির মুখে, অভিযান দাবি এলাকাবাসীর

ডুমুরিয়ার বিভিন্ন খাল বিল নদী নালায় অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নীরব ঘাতক চায়না জাল

এফ এম মনির ডুমুরিয়া |
১১:৪৭ পি.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


খুলনার বৃহৎ উপজেলা ডুমুরিয়ার খাল বিল নদী নালা জলাশয়ে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না জাল বা চাইনিজ দুয়ারি। স্থানীয়দের অভিযোগ এই অবৈধ জালের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে মৎস্য বিভাগের প্রয়োজনীয় তদারকি থাকলে এসব অবৈধ জালের অবাধ  ব্যবহার রোধ হওয়া সম্ভব। 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় রংপুর, কৃষ্ণনগর, লতা, মধুগ্রাম, সিংগা, আমভিটা, দোহাকুলা, মাধবকাঠি, তাওয়ালিয়াসহ বিল ডাকাতিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে চায়না জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি মুক্ত জলাশয় ও সরকারি খালে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও অবৈধ এই জালের কারণে সেই উদ্যোগ কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ঘের মালিকদের অভিযোগ এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে অন্যের মাছের ঘেরে গোপনে চায়না জাল পেতে রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকরা বলছেন রাতে ঘের থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে মাছ ধরে নেওয়ার নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ঘেরের রেণুপোনা ও ছোট মাছগুলো দ্রুত নিধন হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিজ্ঞদের মতে চায়না জালের ফাস অত্যন্ত সূ² হওয়ায় এতে রেণুপোনা থেকে শুরু করে ছোট আকারের প্রায় সব মাছ আটকা পড়ে। যার ফলে টেংরা, পুঁটি, বাইন, খলসে, শোল, টাকি ও কৈ মাছের পোনাসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ নির্বিচারে এতে ধরা পড়ছে। শুধু মাছই নয়, জলজ পরিবেশের জন্য উপকারী বিভিন্ন প্রাণীও এই জালে আটকে মারা যাচ্ছে। এতে জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একজন ঘের ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ঘেরে মাছ চাষ করি, অথচ রাতে অসাধু চক্র চায়না জাল পেতে ছোট মাছগুলো ধরে নিয়ে যায়। প্রশাসনের অভিযান ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।
কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা অমল মন্ডল বলেন, উপজেলা মৎস্য বিভাগের সহযোগিতা বা পরামর্শ পেলে হয়তো আরও উপকৃত হতাম, কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় ডুমুরিয়া অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে ওঠেনা। রংপুর গ্রামের অনুপম মল্লিক বলেন, বিল ডাকাতিয়া এলাকায় মৎস্য বিভাগের অনেক কাজ রয়েছে, কিন্তু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে আমরা কখনো মাঠপর্যায়ে দেখিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, চায়না বা কারেন্ট জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। চায়না জাল ব্যবহার বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, আজও (বুধবার) আমরা ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ভদ্রা খালে এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করেছি। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া শুধু আমার একার পক্ষে এর সমাধান সম্ভব নয়। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অবশ্যই সেখানে পদক্ষেপ নিবো। এদিকে মৎস্যজীবী ও ঘের মালিকরা অবিলম্বে চায়না জালের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি বিল ডাকাতিয়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ জাল জব্দ এবং রাতের আঁধারে অন্যের ঘেরে জাল পেতে মাছ নিধনকারী চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয়দের মতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ডুমুরিয়ার বিল-জলাশয়ের দেশীয় মাছ, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য এবং হাজারো মৎস্যজীবীর জীবিকা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ