খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিডনি কেনাবেচার ভয়ঙ্কর প্রতারণা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক

|
১১:৫৬ পি.এম | ৩১ জুলাই ২০২৬


দেশের প্রচলিত আইনে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারপরও দালালচক্র থেমে নেই। লোভ দেখিয়ে নিরীহ দরিদ্র মানুষকে শিকারে পরিণত করছে। দুর্ভাগ্যজনক যে কিছু দরিদ্র মানুষ প্রলোভনে পড়ে নিজেদের শরীরের অপরিহার্য অঙ্গ কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করতে চায়। জানা যায়, কিডনি অপসারণের পর ভুক্তভোগীরা প্রতিশ্র“ত অর্থ পান না। এমন ঘটনা আমাদের দেশে বিরল নয়।
গাইবান্ধার গোবিন্দপুর উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়া এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এই সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। মন্টু মিয়া জানান, প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর দালালরাই পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করে দেয়। বছরের শুরুতে ৫০ হাজার টাকাও দেয়। পরে নেপাল নিয়ে একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। কিন্তু এর পরই দালালচক্রের আসল রূপ বের হয়ে আসে। এখন পর্যন্ত বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাননি মন্টু মিয়া।
দালালচক্র এখন লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করছে। উপায়ান্তর না দেখে মন্টু মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি আদালত-৫-এ মামলা করেন। এদিকে মন্টু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, কিডনি অপসারণের পর থেকে তিনি আগের মতো ভারী কাজ করতে পারেন না। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এর আগেও জয়পুরহাটে কিডনি কেনাবেচার খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। ওই এলাকায় একটি চক্র দিনের পর দিন কিডনি কেনাবেচার অবৈধ কাজটি করে আসছে। সামাজিক মাধ্যমেও এমন চক্র দেখা যায়। অনেক ঘটনা খবরের শিরোনাম হয়, আবার অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে দালালচক্র নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে সমঝোতায় পৌঁছে। এতে জানাজানির সুযোগ কম থাকে।
আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতারণা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। বিশেষ করে দালালচক্র যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে অবৈধ বাণিজ্য কমে আসবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা বলয় আরো বাড়ানো দরকার, যেন একজন মানুষকে কিডনি বিক্রির কথা ভাবতে না হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ