খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাঁশখালীতে মাছের ঘেরের দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ২

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৬ এ.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৬


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে মাছের ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো দুইজন। সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
শুক্রবার ভোরে সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল এলাকার বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন ভেড়িবাঁধের কাছে মাছের ঘেরে এ সংঘর্ষ হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সংঘর্ষে নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের (৩০) বাড়ি পশ্চিম সরল ভেড়িবাঁধ এলাকায়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো দুইজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মাছের ঘেরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও লাভের অংশীদারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’টি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন গুলিবর্ষণ করেন। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল ভেড়িবাঁধ-সংলগ্ন তাজুরঘোনা এলাকার একটি চিংড়ি মাছের প্রজেক্টের দখলকে কেন্দ্র করে কবির গ্র“প ও মনসুর গ্র“পের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পরপরই পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত¡াবধানে একাধিক টিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক বলেছেন, “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
পুলিশের দাবি, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ