খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ডবল সেঞ্চুরিতে ছুঁই ছুঁই কাঁচা মরিচ, বেগুনের কেজি ১৫০, বাড়ছে পেয়াজের ঝাঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪৯ এ.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৬


টানা বৃষ্টির অজুহাত ছাড়েনি সবজির বাজারকে। বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে এখনও চড়া দাম সব ধরনের সবজির। যার মধ্যে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারে লম্বা বেগুন ১২০ টাকা বিক্রি হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, বাকি সবজিগুলোর ৮০ থেকে ১২০ টাকার ঘরে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচের কেজি প্রায় ৪০০ ছুঁই ছুঁই। মান ও জাত ভেদে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। থেমে নেই পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। পাড়া মহল্লায় আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিবৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর নিত্যপণ্য দু’টির দাম বৃদ্ধিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ আর পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫-৬০ টাকায়। যা গত ১৫ দিন আগেও কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই সবজির দাম বাড়তি। আরও কিছুদিন সবজির এমন বাড়তি দামই থাকবে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও জালি প্রতি পিস ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধুন্দল প্রতিকেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ জাত ও মান ভেদে প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আলামিন বলেন, ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। দামের পত্তা থাকায় গত বুধবারও ২৫০ গ্রাম ৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু দামের পত্তা না থাকায় কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি করছি।
বড় বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে ভারী বর্ষণ চলছে। বৃষ্টিতে মরিচ গাছ পঁচে যায়। ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।
মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী খায়রু আলম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। ডুমুরিয়া ও শরাফপুর গিয়ে সেখানে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া খুলনার পাইকারি বাজার ট্রাক টার্মিনালে গিয়েও পণ্যটি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডারের মালিক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি খুবই কম। বড় বাজার ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচা বাজারে ফরিদপুর, শৈলকূপা, কুষ্টিয়া ও মাগুরার মোকাম থেকে এ পণ্যটি আমদানি করা হয়। এসব মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় ব্যাপারীদের সেখান থেকে বেশি দামে কিনে এখানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের এ সময়ে আমরা একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। চৈত্র মাসে থেকে এ পণ্যটি বাজারজাত করছেন উল্লিখিত এলাকার কৃষকরা। আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালে মোরেলগঞ্জ বাণিজ্য ভাণ্ডারের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পেঁয়াজ চাষিরা ঘর থেকে পণ্যটি বের করতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে কৃষকরা পাঁ চাষের দিকে মুখাপেক্ষী হচ্ছেন। যে কারণে মোকামগুলোতে আমদানি কম হওয়া পণ্যটির দাম বেড়েছে। পাঁচ কেজির এক দাঁড়ি তিনি ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীর সান্ধ্য বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকুরিজীবী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত তিন দিন যাবৎ সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টি ছিলো, এখন সেভাবে বৃষ্টি নেই, তবুও দাম অতিরিক্ত বেশি। আজকে (শুক্রবার) বাজারে বেগুন দেড়শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মালের সরবরাহ কম, কারণ বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এখন বলতে গেলে দুই একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে, বাকি সব ১০০ টাকার উপরে। এত বেশি দামে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সবজি কিনে খাওয়া কঠিন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ