খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৫ এ.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৬


নয় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজশাহীর পবা উপজেলায় বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে বড়গাছী ইউনিয়নের পাকার মাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন বলেছেন, “শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতেই শিশুদের প্রাইভেট টিউশন পড়াতেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুকন। তার বড় ভাই আবু বক্কর একই ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে ক্বারী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১২ জুলাই শিশুটি প্রাইভেট পড়তে গেলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের কৌশলে বিদায় করে দেন ওমর ফারুক। পরে শিশুটিকে একা পেয়ে তার শরীরে স্পর্শ করে যৌন হয়রানি করেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটির মা বলেন, “শিক্ষকতার মতো একটি বিশ্বাসের জায়গায় এমন ঘটনার শিকার হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমানকে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন তার স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তার বাবা মজিবুর রহমানও অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন বলেন, “ওমর ফারুক আমাদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ