খুলনা | শনিবার | ০১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

২০ দিনে ৬৫ লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি

ছুটির দিনে খুলনায় মাসব্যাপী বৃক্ষমেলায় ছিল ক্রেতারদের চোখে পড়ার মত ভীড়

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:১৭ এ.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৬


জমে উঠেছে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। মেলা শেষ হতে বাকি মাত্র দশ দিন। ক্রেতা, বৃক্ষপ্রেমি ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত মেলার স্টলগুলো। ক্রেতারা গাছ কিনছেন তাদের পছন্দের। মেলায় কেউ আসছেন গাছ কিনতে, আবার কেউ কেউ আসছেন তাদের প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে। ক্রেতা ও স্টল মালিক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গত বিশ দিনে অর্থাৎ, ৩০ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ভেষজ, ফুলসহ ও অন্যান্য গাছের চারা বিক্রি হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৫১টি। যার মূল্য ৬৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৫০টাকা।   
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, প্রতি দিনের তুলনায় গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলার স্টলগুলোতে ছিলো উপচে পড়ার মতো ভীড়। বিকেল থেকে মেলায় সকল বয়সী নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মেলার স্টলগুলো ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিলো। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবিদের ভীড় ছিলো মেলার স্টগুলোতে। মেলায় নারীদের উপস্থিতি বেশি ছিলো এমন মন্তব্য স্টল মালিকদের। 
স্টলমালিকদের ভাষ্যমতে, ক্রেতাদের চেয়ে মেলার স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি প্রতিদিন বেশি থাকে। মেলার সরকারি ও বেসরকারি মিলে ৬২টি স্টল যেন সেজেছে অপরূপ সাজে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ মেলায় কাক্সিক্ষত বেচাকেনা হচ্ছে এমনটা বলছেন অধিকাংশ স্টল মালিক।  স্টলগুলোতে ফলজ, বনজ, ফুল, ভেষজসহ কমতি নেই কোনো চারা গাছের। 
মেলার স্টগুলোতে রয়েছে দামি পার্সিমন ফল গাছ, শ্বেত চন্দন, কাটা মুকুল, লাকি বাম্বু গাছ, কাট গোলাপ, করছল ফল গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির চেরি, স্টোবেরি পেয়ারা, ম্যানেলা চেরি, পাকিস্তানী মাল্টা, লুুবি রংগার,  শোভাবর্ধনকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাস, থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেল, বাহারী রঙের ফুলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী, ফুলের ও অন্যান্য ফুলের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। 
অপরদিকে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ম্যানগ্রোভ নার্সারী নামক স্টলটি। যেখানে নগরীর মুজগুন্নি এলাকার বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগ দায়িত্বে আছেন এমনকি দেখভাল করছেন।  
অনি নার্সারী স্টলের স্বত্ত¡াধিকারী মোঃ জমির উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ধরণের ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা তারা স্টলে রয়েছে। সুলভ মূল্যে চারা বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে কোনো চারা বিক্রি করা হচ্ছে না। 
রূপসার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপালী নার্সারির মোঃ আল-আমিন খাঁ বলেন, নতুন স্টল হিসেবে ক্রেতাদের যথেষ্ট ভীড় আছে। তিনি বলেন, তাদের নার্সারীতে বারি ফুট, রেট ক্রিস্টাড জাতের আমের চারা, ভিয়য়েতনামী জাতের মাল্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধির গাছের চারা রয়েছে। 
মেসার্স নাজিফা নার্সারি স্টল মালিক সাকিবুল হাসান বলেন, বেচাকেনার অবস্থা ভালো। স্টলে শোভাবর্ধণকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক, ক্যাকটাসসহ নানা প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। 
নিজাম নার্সারি স্টল মালিক মোঃ নিজাম শেখ, দিনদিন ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। গাছের চারাও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, তার স্টলে থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। 
নয়নতারা নার্সারি স্টল মালিক আলতাফ হোসেন বলেন, বেচাকেনার অবস্থা বেশ ভালোই। মেলায় পুরুষের তুলনায় নারীদের উপস্থিতি বেশি।  
রূপসার নন্দনপুরের রাবেয়া নার্সারির জাকির মুন্সি বলেন, মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্র্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে বন অধিদপ্তর বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা স্টলে বয়েমে রাখা রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, মাছ, বাঘের মাথার খুলিসহ বিভিন্ন প্রাণির দেহবশেষ। 
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগ। ১১ জুলাই থেকে শুরু হয় এ মেলা, চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন মেলা চলাকালিন সময়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। মেলা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রদান করছেন দায়িত্বশীলরা।  
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মেলায় দিনদিন বেচাকেনা বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বেচাকেনা তুলনামূলক বেশি হয়। তিনি বলেন, স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির পর্যাপ্ত গাছের চারা রয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ