খুলনা | সোমবার | ০৩ অগাস্ট ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে খুলনার পর্যটকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১১:৩৬ পি.এম | ০১ অগাস্ট ২০২৬

 

​কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে খুলনার এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সৈকতের দরিয়ানগর এলাকায় ‘এফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিংয়ে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও পরিচালক হলেন মো. ফরিদ নামে এক ব্যক্তি।

​মৃত শৌভিক রায় খুলনা সদর থানার বানিয়াখামার এলাকার শেখর রায়ের ছেলে। তিনি পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস (এটি এমন একটি সুরক্ষা-সরঞ্জাম, যা শরীরে বেল্টের মতো পরে কাজ করা হয় যাতে উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়) থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন শৌভিক। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার পর শৌভিকের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে প্যারাসেইলিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা, তদারকি এবং নিয়মনীতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্যারাসেইলিং থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান।

তিনি বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও তারা সেই নির্দেশ অমান্য করেছে। ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের প্যারাসেইলিং করিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে বারবার প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও জানান, পর্যটকের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

​এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও ফোন ধরেননি এফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর মালিক মো. ফরিদ। 

বার বার দুর্ঘটনা ঘটলেও কঠোর ব্যবস্থা নেই
​স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় ফরিদ কর্তৃক পরিচালিত অনেক প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান, যান্ত্রিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং উদ্ধারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

​এর আগে ২০২৪ সালেও এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ওই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

​এর আগে গত বছরের ২০ মে দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন। সে সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নিয়ম ভেঙে একসঙ্গে দুজনকে নিয়ে উড্ডয়নের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম জব্দ করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই বছরে আরেক নারী পর্যটকও প্যারাসেইলিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় আহত হন। তখনও নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসন প্রাথমিক ব্যবস্থা নিলেও কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বারবার এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

​কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা, কার্যকর তদারকি এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার মান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ